আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ইরানে নতুন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে চীন। সাম্প্রতিক মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদনে এ দাবি করা হয়েছে।
বিষয়টির সঙ্গে যুক্ত তিন কর্মকর্তার বরাতে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন।
বিজ্ঞাপন
প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির ফাঁকে বিদেশি অংশীদারদের সাহায্যে নিজেদের অস্ত্রভান্ডার আবারও পূর্ণ করার চেষ্টা করছে তেহরান।
দুটি গোয়েন্দা সূত্র সিএনএনকে জানিয়েছে, তারা ইঙ্গিত পেয়েছেন চীন এসব অস্ত্র তৃতীয় কোনো দেশের মাধ্যমে পাঠানোর পরিকল্পনা করছে। অস্ত্রের প্রকৃত উৎস গোপন রাখতেই সেগুলো সরাসরি পাঠানো হচ্ছে না।
সূত্রের দাবি, ‘ম্যানপ্যাড’ নামক কাঁধ থেকে ছোড়া যায় এমন বিমান বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা হস্তান্তরের প্রস্তুতি নিচ্ছে বেইজিং। এই ব্যবস্থাগুলো নিচু দিয়ে উড়ে যাওয়া মার্কিন সামরিক বিমানগুলোর জন্য একটি অপ্রতিরোধ্য হুমকি সৃষ্টি করে, যা ৪০ দিনের যুদ্ধে প্রমাণিত হয়েছে। এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা দিয়েই যুক্তরাষ্ট্রের একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছিল ইরান। যুদ্ধবিরতি ভেস্তে গেলে ও আবারো যুদ্ধ শুরু হলে এই অস্ত্র ফের যুক্তরাষ্ট্রের জন্য মাথাব্যথার কারণ হতে পারে।

বিজ্ঞাপন
এদিকে মার্কিন গোয়েন্দাদের এই দাবি অস্বীকার করে ওয়াশিংটনস্থ চীনা দূতাবাস।
দূতাবাসের একজন মুখপাত্র সিএনএনকে বলেছেন, ‘যুদ্ধরত কোনো দেশকে চীন কখনো অস্ত্র দেয়নি। এই তথ্য মিথ্যা।’
তিনি আরও বলেন, ‘একটি দায়িত্বশীল বৃহৎ রাষ্ট্র হিসেবে চীন সর্বদা নিজের আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা পালন করে। আমরা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে অনুরোধ করব, তারা যেন ভিত্তিহীন অভিযোগ ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে রটানো এই ধরনের রগরগে প্রচার থেকে বিরত থাকে।’
এদিকে চলতি সপ্তাহের শুরুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, ইরানকে সামরিক অস্ত্র সরবরাহকারী দেশগুলোর ওপর অবিলম্বে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে।
ধারণা করা হচ্ছে, এই শুল্ক নীতির মূল লক্ষ্য রাশিয়া এবং চীন, যারা ইরানের প্রধান অস্ত্র সরবরাহকারী।
সুইডেন ভিত্তিক একটি স্বাধীন আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিপরির (SIPRI) তথ্যমতে, এরমধ্যে গত এক দশকে ইরানের মোট আমদানিকৃত অস্ত্রের সিংহভাগই এসেছে রাশিয়া থেকে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতেও ইরান ও রাশিয়ার মধ্যে ৫০০ মিলিয়ন ইউরো (প্রায় ৫৮৯ মিলিয়ন ডলার) মূল্যের একটি গোপন অস্ত্র চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তির আওতায় রাশিয়া আগামী তিন বছরে ইরানকে ২৫০০টি ‘৯এম৩৩৬’ মিসাইল এবং ৫০০টি ‘ভারবা’ লঞ্চার সরবরাহ করবে।
এর আগে ২০২১ সাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত রাশিয়া ইরানের কাছ থেকে ৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের সামরিক সরঞ্জাম- ড্রোন ও মিসাইল ক্রয় করেছে।
অন্যদিকে চীনের সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক ‘প্রধানত তেলের বিনিময়ে অস্ত্র’-এর ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। দেশটি ইরানকে অ্যান্টি-শিপ ক্রুজ মিসাইল, ড্রোন এবং বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহ করছে। যদিও সঠিক আর্থিক অংক প্রায়ই গোপন রাখা হয়, তবে কিছু রিপোর্ট অনুযায়ী চীন ইরানকে গোপনে প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলার মূল্যের অস্ত্র সরবরাহ করেছে।
এছাড়া ইরান চীন থেকে ৮০০টি ব্যালিস্টিক মিসাইল তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ অর্ডার করেছে বলে জানা গেছে।
সূত্র: সিএনএন, জেরুজালেম পোস্ট
এমএইচআর




