মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

ইরানি সম্পদ ফেরত দিতে সম্মত যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৫৯ পিএম

শেয়ার করুন:

ইরানি সম্পদ ফেরত দিতে সম্মত যুক্তরাষ্ট্র

ইসলামাবাদে নির্ধারিত শান্তি আলোচনায় একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে ‘আন্তরিকতার’ সংকেত হিসেবে কাতার ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ব্যাংকে জব্দকৃত ইরানি সম্পদ ফেরত দিতে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

শনিবার ইরানের একটি ঊর্ধ্বতন সূত্রের বরাতে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।  

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রটি রয়টার্সকে জানিয়েছে, জব্দকৃত সম্পদগুলো ছাড়িয়ে আনা ‘হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত, যা আলোচনায় একটি মূল বিষয় হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে ওয়াশিংটন যে সম্পদগুলো অবমুক্ত করতে সম্মত হয়েছে তার মূল্য জানায়নি ঊর্ধ্বতন সূত্রটি। 

দ্বিতীয় একটি ইরানি সূত্র জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র কাতারের কাছে থাকা জব্দকৃত ৬০০ কোটি ডলারের ইরানি তহবিল ফেরত দিতে সম্মত হয়েছে। ২০১৮ সালে এসব তহবিল জব্দ করা হয়েছিল। 

এদিকে সম্পদ অবমুক্ত করার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বিবৃতি দেওয়া হয়নি। মন্তব্যের অনুরোধে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেয়নি।

রয়টার্স জানিয়েছে, ২০১৮ সালে প্রাথমিকভাবে জব্দ করা এই ৬০০ কোটি ডলার মার্কিন-ইরান বন্দি বিনিময়ের অংশ হিসেবে ২০২৩ সালে ফেরত দেওয়ার কথা ছিল, কিন্তু ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী হামাস ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামলার পর তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন তহবিলটি পুনরায় জব্দ করে।

মার্কিন কর্মকর্তারা সে সময় বলেছিলেন, ইরান অদূর ভবিষ্যতে ওই অর্থের নাগাল পাবে না এবং অ্যাকাউন্টটি সম্পূর্ণভাবে জব্দ করার অধিকার ওয়াশিংটনের রয়েছে।

এই তহবিলটি দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে ইরানের তেল বিক্রি থেকে এসেছে এবং ২০১৮ সালে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে তার প্রথম মেয়াদে ইরানের ওপর পুনরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার পর তা দক্ষিণ কোরিয়ার ব্যাংকগুলোতে আটকে গিয়েছিল। তবে বাইডেনের আমলে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসের যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বন্দি বিনিময় চুক্তির অধীনে অর্থ কাতারের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করা হয়েছিল। 

মার্কিন কর্মকর্তারা সে সময় বলেছিলেন, এই অর্থ শুধুমাত্র মানবিক ব্যবহারের জন্য এবং মার্কিন ট্রেজারির তত্ত্বাবধানে ইরানে পাঠানো খাদ্য, ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও কৃষি পণ্যের জন্য অনুমোদিত বিক্রেতাদের মধ্যে তা বিতরণ করা হবে।

এছাড়াও মার্কিনিদের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের তেলসহ বিভিন্ন পণ্য বিক্রির বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার বিশ্বের বহু দেশে আটকে আছে।

এদিকে গতকাল শুক্রবার ইরানের স্পিকার বাঘের গালিবাফ হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন জানান, লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর এবং ইরানের জব্দ করা সম্পদ মুক্ত করা ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা শুরু হবে না। এরপরই ইরান হরমুজে কোনো বাধা ছাড়া জাহাজ চলতে দেবে এমন শর্তে তাদের জব্দকৃত সম্পদ ছেড়ে দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এরফলে আর আজ আলোচনা শুরুর আগেই ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের একটি শর্ত মেনে নিয়েছে বলেই আশা করা হয়েছে। 

সূত্র: রয়টার্স, আলজাজিরা 

এমএইচআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর