শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

বিশ্বমঞ্চে পাকিস্তানকে কোণঠাসা করতে গিয়ে উল্টো চাপে ভারত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০ এপ্রিল ২০২৬, ১১:০২ এএম

শেয়ার করুন:

বিশ্বমঞ্চে পাকিস্তানকে কোণঠাসা করতে গিয়ে উল্টো চাপে ভারত
বিশ্বমঞ্চে পাকিস্তানকে কোণঠাসা করতে গিয়ে উল্টো চাপে ভারত

ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাতে ঘোষিত দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানিয়েছে ভারত। তবে এই প্রক্রিয়ায় পাকিস্তানের যে ভূমিকা ছিল, সে বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে কোনো উল্লেখ করা হয়নি; এমনকি পাকিস্তানের নামও এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনের বহু নেতা যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নে পাকিস্তানের মধ্যস্থতামূলক উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন। তবুও ভারতের পক্ষ থেকে প্রকাশিত আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ায় শুধু এ বিষয়টি উপেক্ষিতই হয়নি, ইসলামাবাদে সম্ভাব্য কূটনৈতিক আলোচনার দিকেও নীরবতা বজায় রাখা হয়েছে।


বিজ্ঞাপন


ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, তারা যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানায় এবং আশা করে এটি পশ্চিম এশিয়ায় দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হবে। একইসঙ্গে তারা জোর দিয়েছে যে সংঘাত নিরসনে যুদ্ধবিরতি, সংলাপ ও কূটনৈতিক উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বিবৃতিতে সংঘাতের ধ্বংসাত্মক প্রভাবের কথাও তুলে ধরা হয়। বিশেষ করে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যে এর নেতিবাচক প্রভাবের কথা উল্লেখ করে বলা হয়, হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক ও তেলবাহী জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হওয়া প্রয়োজন।

এর আগে পাকিস্তান যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতার আগ্রহ দেখায়, তখন থেকেই ভারতের অভ্যন্তরে কেন্দ্রীয় সরকারের কূটনৈতিক অবস্থান নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়। বিরোধীরা এটিকে ভারতের জন্য একটি বড় ধরনের কূটনৈতিক ধাক্কা হিসেবে বর্ণনা করে।

এই প্রেক্ষাপটে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বিরোধী নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে জানান, ভারত কোনোভাবেই ‘ব্রোকার নেশন’ বা মধ্যস্থতাকারী দেশের ভূমিকায় যেতে আগ্রহী নয়।


বিজ্ঞাপন


তবে ভারতের সরকারি অবস্থানের বাইরে গিয়ে বিরোধী রাজনীতিবিদ, বিশ্লেষক ও সাংবাদিকদের একটি অংশ পাকিস্তানের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন এবং মোদী সরকারের কূটনীতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন।

কংগ্রেস নেতা রশিদ আলভির মতে, পাকিস্তান যে ভূমিকা পালন করেছে, সেটি ভারতের করা উচিত ছিল। তিনি ইঙ্গিত করেন, ইসরায়েলের প্রতি ভারতের ঘনিষ্ঠ অবস্থান এই ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সাবেক পররাষ্ট্র সচিব নিরুপমা মেনন রাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিশ্লেষণে বলেন, পাকিস্তান সরাসরি ‘স্থপতি’ না হলেও একটি কার্যকর মাধ্যম ও অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে। তার ভাষায়, এটি প্রচলিত অর্থে মধ্যস্থতা না হলেও তা অবজ্ঞা করার মতো নয়।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি কোনো চূড়ান্ত সমাধান নয়; বরং এটি একটি নতুন পর্যায়ে প্রবেশ, যেখানে সামরিক চাপ ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা একসঙ্গে চলছে। ভারতের উচিত এ অবস্থায় নিজের অবস্থান স্পষ্ট করা এবং ভারসাম্যপূর্ণ কূটনৈতিক কণ্ঠ বজায় রাখা।

বিশ্লেষক অশোক সোয়াইনের মতে, এই যুদ্ধবিরতি ইরানের জন্য কৌশলগত সাফল্য এবং পাকিস্তানের জন্য মর্যাদার বিষয়। তার দাবি, পাকিস্তানের কূটনৈতিক সক্রিয়তা প্রমাণ করে তারা একাধিক পরাশক্তির আস্থাভাজন, আর এ প্রেক্ষাপটে মোদীর পাকিস্তানকে বিচ্ছিন্ন করার কৌশল উল্টো ভারতের জন্যই বুমেরাং হয়েছে।

অন্য বিশ্লেষক অভিনব সিং বলেন, বর্তমানে পাকিস্তানই এমন একটি দেশ, যার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়া এবং উপসাগরীয় অঞ্চলসহ ইরানের সুসম্পর্ক রয়েছে—যা তাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অবস্থানে নিয়ে গেছে।

সাংবাদিক অঞ্জনা শঙ্করও পাকিস্তানের ভূমিকাকে গুরুত্ব দিয়ে বলেন, যুদ্ধ যখন চরম পর্যায়ে ছিল, তখনও ইসলামাবাদ কূটনৈতিক যোগাযোগের পথ খোলা রেখেছিল এবং শেষ মুহূর্তে যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করতে ভূমিকা রেখেছে—যা একটি বড় অর্জন।

এদিকে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করায় কয়েক বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো ইরানের তেল ভারতে আসতে যাচ্ছে, যা চলতি সপ্তাহেই পৌঁছানোর কথা। সূত্র: বিবিসি

/এএস

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর