শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

গাড়ির এসি চালানোর সঠিক নিয়ম ও জ্বালানি সাশ্রয়ের কার্যকরী কৌশল

অটোমোবাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৫০ পিএম

শেয়ার করুন:

গাড়ির এসি চালানোর সঠিক নিয়ম ও জ্বালানি সাশ্রয়ের কার্যকরী কৌশল
গাড়ির এসি চালানোর সঠিক নিয়ম ও জ্বালানি সাশ্রয়ের কার্যকরী কৌশল

প্রচণ্ড গরমে স্বস্তি পেতে গাড়ির শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র বা এসি এখন আমাদের নিত্যদিনের অপরিহার্য সঙ্গী। তবে অনেকেই না বুঝে ভুল নিয়মে এসি ব্যবহার করেন, যার ফলে গাড়ির জ্বালানি খরচ যেমন বাড়ে, তেমনই এসির আয়ুও দ্রুত কমে যায়। গাড়ির এসি দীর্ঘস্থায়ী করতে এবং এর সঠিক কার্যকারিতা বজায় রাখতে কিছু সুনির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি।

গাড়িতে ওঠার পর প্রথম কাজটিই এসি চালিয়ে দেওয়া হওয়া উচিত নয়। অনেক সময় রোদের মধ্যে সারাদিন গাড়ি পার্ক করা থাকলে ভেতরের বাতাস প্রচণ্ড গরম হয়ে থাকে। এমন অবস্থায় সঙ্গে সঙ্গে এসি চালু করলে কমপ্রেসরের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। গাড়ি স্টার্ট করার পর প্রথমে কিছুক্ষণ সমস্ত জানলার কাঁচ নামিয়ে ফ্যান ফুল স্পিডে ছেড়ে দিন, যাতে ভেতরের গরম ও ভারী বাতাস বাইরে বেরিয়ে যেতে পারে। বাতাস কিছুটা স্বাভাবিক হলে জানলা তুলে এসি অন করা উচিত।

গাড়ির এসি চালু করার সময় ব্লোয়ারের গতি বা ফ্যানের স্পিড সঠিক রাখা জরুরি। এসির তাপমাত্রা সবসময় চব্বিশ বা ছাব্বিশ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সেট করা সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ। অনেকে অতিরিক্ত ঠান্ডার জন্য তাপমাত্রা ষোলো ডিগ্রিতে নামিয়ে রাখেন, যা শরীরের জন্য যেমন ক্ষতিকর, তেমনই এতে ইঞ্জিনের ওপর বড় ধরনের চাপ পড়ে এবং গাড়ির মাইলেজ বা জ্বালানি সাশ্রয় ক্ষমতা অনেকটাই কমে যায়। ঘরের মতো গাড়িতেও নির্দিষ্ট আরামদায়ক তাপমাত্রা বজায় রাখাই স্বাস্থ্যসম্মত।

গাড়ি যখন খুব ধীর গতিতে চলে বা ট্রাফিকের মধ্যে আটকে থাকে, তখন এসির ব্যবহার কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করা উচিত। বিশেষ করে তীব্র যানজটের মধ্যে গাড়ি একদম স্লো মোশনে চললে এসির তাপমাত্রা সামান্য বাড়িয়ে দেওয়া যেতে পারে। এ ছাড়া গন্তব্যে পৌঁছানোর দুই-তিন মিনিট আগে এসি বন্ধ করে শুধু ফ্যান বা পাখা চালিয়ে দিলে ইভাপোরেটর কয়েলে জমে থাকা আর্দ্রতা শুকিয়ে যায়, যা পরবর্তীতে দুর্গন্ধ বা ব্যাকটেরিয়া জন্মানোর আশঙ্কা দূর করে।

দীর্ঘদিন গাড়ির এসি ভালো রাখতে নিয়মিত এর রক্ষণাবেক্ষণ করা দরকার। নির্দিষ্ট সময় অন্তর কেবিন এয়ার ফিল্টার পরিষ্কার বা পরিবর্তন করতে হবে এবং এসির গ্যাস ঠিকঠাক আছে কি না তা পরীক্ষা করিয়ে নিতে হবে। এই সহজ নিয়মগুলো মেনে গাড়ি চালালে যেমন আরামদায়ক যাত্রা নিশ্চিত হয়, তেমনই এসির সার্ভিসিং বাবদ অতিরিক্ত খরচ থেকেও রেহাই পাওয়া যায়।

এজেড

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর