বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

লেবাননে ভয়াবহ হামলার পর শান্তি আলোচনা ‘অযৌক্তিক’: ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:০৮ এএম

শেয়ার করুন:

লেবাননে ভয়াবহ হামলার পর শান্তি আলোচনা ‘অযৌক্তিক’: ইরান
ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ।

যুদ্ধবিরতির মধ্যে লেবাননে ভয়াবহ ইসরায়েলি হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা চরমে উঠেছে। এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান শান্তি আলোচনা চালিয়ে যাওয়া ‘অযৌক্তিক’ বলে মন্তব্য করেছে ইরান। লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় একদিনে দুই শতাধিক মানুষের প্রাণহানির ঘটনায় তেহরান এখন সরাসরি পাল্টা আঘাতের হুঁশিয়ারি দিচ্ছে, যা অঞ্চলের অস্থিরতা আরো বাড়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে।

গতকাল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে দুই সপ্তাহের জন্য যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলেও লেবাবনে ভয়াবহ হামলার ফলে তা ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। শনিবার থেকে পাকিস্তানে শান্তি আলোচনা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও লেবাননে ইসরায়েলি হামলার কারণে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখনও চরম অস্থির।


বিজ্ঞাপন


ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এক বিবৃতিতে বলেন, ইসরায়েল ইতোমধ্যে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে যুদ্ধ আরও জোরদার করে যুদ্ধবিরতির বেশ কিছু শর্ত লঙ্ঘন করেছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পরমাণু কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধের শর্ত দিয়ে চুক্তির অবমাননা করছে।

গালিবাফ বলেন, ‘এমন পরিস্থিতিতে দ্বিপক্ষীয় যুদ্ধবিরতি বা আলোচনা চালিয়ে যাওয়া অযৌক্তিক।’

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে আচমকা হামলা চালায় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। দুই দেশের যৌথ হামলার জবাবে ইরানও পাল্টা হামলা চালায়। দেশটি মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন ঘাঁটি এবং ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে ব্যাপক হামলা চালায়। তারপর থেকে টানা যুদ্ধ চলছে। তিন দেশের যুদ্ধের কারণে অশান্ত হয়ে উঠেছে পশ্চিম এশিয়া। যুদ্ধ শুরুর পর ইরান গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে রাখলে বিশ্বজুড়ে তীব্র জ্বালানি সংকট দেখা দেয়।

আলোচনার পর কয়েকটি দেশের পণ্যবাহী জাহাজকে হরমুজ প্রণালি পার করার ‘অনুমতি’ দেয় ইরান। তবে স্পষ্ট জানায়, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং তাদের মিত্র দেশগুলোর জন্য বন্ধ থাকবে হরমুজ। হুঁশিয়ারি দেয়, তাদের শর্ত না-মানলে বন্ধই থাকবে বিশ্বে জ্বালানি সরবরাহের জন্য ব্যবহার করা গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথটি।


বিজ্ঞাপন


অবশেষে দীর্ঘ এক মাসেরও বেশি সময় যুদ্ধের পর পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় গতকাল দুই সপ্তাহের জন্য যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। এজন্য দুটি দেশই বেশ কিছু শর্ত জুড়ে দেয়। তার মধ্যে লেবাবনও যুদ্ধবিরতির আওতায় থাকবে বলে জানানো হয়।

যুদ্ধবিরতি আলোচনায় সহযোগিতা করা পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীও বলেছিলেন, এই চুক্তির আওতায় লেবাননও রয়েছে। তবে এই দাবি অস্বীকার করেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যে যুদ্ধবিরতি হয়েছে, তার আওতায় লেবানন অন্তর্ভুক্ত নয়। একই সুরে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সও বলেন, “আমরা এমন কোনো প্রতিশ্রুতি দেইনি।”

অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি দাবি করেছেন, লেবানন ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতার শর্ত স্পষ্ট। তার ভাষায়, ‘ওয়াশিংটনকে বেছে নিতে হবে’ যুদ্ধবিরতি, নাকি ইসরায়েলের মাধ্যমে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া; দুটো একসঙ্গে সম্ভব নয়।

উল্লেখ্য, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর গতকাল লেবাননজুড়ে ব্যাপক বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল। দেশটির রাজধানী বৈরুত, বেকা ভ্যালি এবং দক্ষিণ লেবাননজুড়ে চালানো এসব হামলায় অন্তত ২৫৪ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ১,১৬৫ জন। এ ঘটনায় দেশজুড়ে শোক পালনের ঘোষণা করা হয়েছে।

বুধবারের এই রক্তক্ষয়ী হামলার পর লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম জানিয়েছেন, ‘ইসরায়েলের হত্যাযজ্ঞ বন্ধ করতে লেবাননের সব রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পদ কাজে লাগানো হচ্ছে।’

লেবাননের স্বাস্থ্যমন্ত্রী রাকান নাসেরেদ্দিন আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, ইসরায়েলের ধারাবাহিক হামলায় বিপুল বেসামরিক হতাহতের চাপ সামলাতে দেশটির স্বাস্থ্যব্যবস্থা চরম সংকটে পড়েছে।

এমআর

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর