বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

লেবাননে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:০২ পিএম

শেয়ার করুন:

লেবাননে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল

ইরানের সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলেও লেবাননে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। বুধবার সকাল থেকে দক্ষিণ লেবাননে বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। এটি থেকেই বোঝা যাচ্ছে, ইসরায়েলের কাছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি লেবাননের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।

লেবাননের স্থানীয় সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি ঘোষণার পরপরই আজ সকালে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের টায়ার এবং নাবাতিয়েহ এলাকায় এই হামলা চালানো হয়। 


বিজ্ঞাপন


এরআগে বুধবার সকালে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দক্ষিণ লেবাননের টায়ার শহরের বাসিন্দাদের জন্য নতুন একটি সরে যাওয়ার নির্দেশ জারি করে।

এতে বলা হয়, নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সবাইকে অবিলম্বে ঘরবাড়ি ছেড়ে জাহরানি নদীর উত্তরে চলে যেতে হবে।

হামলার পর ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা ইরানে হামলা বন্ধ করেছে, তবে লেবাননে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ইরানে তারা হামলার একটি পর্যায় শেষ করেছে এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বের নির্দেশনা অনুযায়ী এখন যুদ্ধবিরতি পালন করছে। ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যে কোনো ধরনের লঙ্ঘন বা হামলার জবাব দিতে তারা পুরোপুরি প্রস্তুত।


বিজ্ঞাপন


মুলত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে আচমকা হামলা চালায় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। দুই দেশের যৌথ হামলার জবাবে ইরানও পাল্টা হামলা চালায়। দেশটি মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন ঘাঁটি এবং ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে ব্যাপক হামলা চালায়। একদিন পরই ইরানের প্রতি সমর্থন জানিয়ে ইসরায়েলি ভূখণ্ডে হামলা চালিয়েছে লেবানিজ সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর। তারপর থেকে টানা যুদ্ধ চলছে। তিন দেশের যুদ্ধের কারণে অশান্ত হয়ে উঠেছে পশ্চিম এশিয়া।

দীর্ঘ এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধ অবশেষে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই সপ্তাহের জন্য স্থগিত হয়েছে। যুদ্ধবিরতির চুক্তিতে এই চুক্তিতে লেবানন ফ্রন্টকেও অন্তর্ভুক্ত করার জন্য ইরানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিল লেবানিজ সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। 

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে জানান, লেবাননসহ সর্বত্র যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে।

তিনি লিখেছেন, ‘আমি এই উদ্যোগকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানাচ্ছি এবং উভয় দেশের নেতৃত্বের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। একই সঙ্গে, সকল বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য আরও আলোচনার প্রয়োজন। সেই আলোচনার জন্য দুই দেশের প্রতিনিধিদের আগামী ১০ এপ্রিল ইসলামাবাদে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।’

কিন্তু লেবানন নিয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভিন্নমন পোষণ করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু। তিনি বলেন, লেবাননে যুদ্ধবিরতির বিষয়টি এতে অন্তর্ভুক্ত নয়।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘বিশ্বের জন্য ইরান যাতে পারমাণবিক, ক্ষেপণাস্ত্র ও সন্ত্রাসী হুমকি হয়ে না দাঁড়ায়, তা নিশ্চিত করার মার্কিন প্রচেষ্টাকে আমরা সমর্থন করি।’

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে জানিয়েছে, আসন্ন আলোচনায় তারা একসঙ্গে লক্ষ্য অর্জনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে একই সঙ্গে জানানো হয়েছে, দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মধ্যে লেবানন অন্তর্ভুক্ত নয়।

অন্যদিকে, ইসরায়েল ইঙ্গিত দিয়েছে, তারা লেবাননের সীমান্তের ভেতরে একটি নিরাপত্তা বাফার জোন তৈরি করতে চায়। ইতোমধ্যে ইসরায়েলি সৈন্যরা লেবাননে ঢুকেছে এবং আশঙ্কা করা হচ্ছে, এর ফলে দেশটির কিছু অংশ ইসরায়েলের দখলে চলে যেতে পারে।

সূত্র: বিবিসি

এমএইচআর

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর