এক রাতেই ইরানকে ধ্বংস করে দেওয়া সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবারও সেই রাতটি হতে পারে বলে জানান তিনি।
স্থানীয় সময় সোমবার (৬ এপ্রিল) হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এমন হুঁশিয়ারি দেন ট্রাম্প। তার সঙ্গে ছিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ও জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন।
বিজ্ঞাপন
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, মঙ্গলবার রাতের মধ্যে ইরানকে একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে হবে, নইলে তাদের কঠোর পরিণতি ভোগ করতে হবে। নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে যুদ্ধবিরতি বা সমঝোতা না হলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর ব্যাপক হামলা চালানো হবে।
সতর্ক করে ট্রাম্প বলেন, ‘পুরো দেশ এক রাতেই শেষ করে দেওয়া সম্ভব, আর সেই রাত আগামীকালও হতে পারে।’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘মঙ্গলবার রাত ৮টাই চূড়ান্ত সময়সীমা। এর কোনো পরিবর্তন হবে না।’ তবে এখন পর্যন্ত এই শর্তে রাজি হয়নি ইরান।
সংবাদ সম্মেলনে ইরানে আটকে পড়া মার্কিন বিমানবাহিনীর সদস্যদের উদ্ধারে পরিচালিত অভিযানকে ‘ঐতিহাসিক’ বলে অভিহিত করেন ট্রাম্প। বলেন, ‘আমাদের সাহসী যোদ্ধাদের ঘরে ফিরিয়ে আনতে আমি মার্কিন সশস্ত্র বাহিনীকে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলাম।’ তিনি জানান, এই উদ্ধার অভিযানে ২১টি মার্কিন সামরিক উড়োজাহাজ অংশ নিয়েছে।
বিজ্ঞাপন
ইরানকে নিয়ে ট্রাম্পের এমন মন্তব্যের পর অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা আরো বেড়েছে বলে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন।
এর আগে রোববার থেকেই ইরানের বিরুদ্ধে কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘পুরো দেশটাই উড়িয়ে দেওয়া হবে, যাতে তারা আগামী ২০ বছরেও ঘুরে দাঁড়াতে না পারে।’ সোমবারও সেই অবস্থান থেকে সরে আসেননি তিনি।
যদিও শুরুতে একটি বড় চুক্তির আশা প্রকাশ করেছিলেন ট্রাম্প। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘খুব ভালো আলোচনা হচ্ছে, আজই একটি বড় চুক্তি হতে পারে।’ কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। পরে জানা যায়, ৪৫ দিনের সংঘর্ষবিরতির প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছিল। মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একাধিক দফায় বৈঠকও হয়। তবে সেখানেও সমঝোতা হয়নি।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সচিব পিটার হেগসেথও ইরানকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেন, মঙ্গলবারের মধ্যে সমাধান না হলে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো-সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্র-কোনোটিই অক্ষত থাকবে না।
এমআর

