‘যুদ্ধ বন্ধে একটি চুক্তিতে পৌঁছানো এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার জন্য মঙ্গলবারের সময়সীমাই চূড়ান্ত, এর মেয়াদ বাড়ানোর সম্ভাবনা নেই’— বলে ফের ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুতে হামলার হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া প্রস্তাবের বিপরীতে ইরানের শান্তি প্রস্তাব তাৎপর্যপূর্ণ হলেও তা যথেষ্ট নয়।
সোমবার হোয়াইট হাউসের সাউথ লনে শিশুদের জন্য আয়োজিত একটি ইস্টার এগ অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এই হুমকি দিয়েছেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
ট্রাম্প বলেন, ‘তারা (ইরান) একটি প্রস্তাব দিয়েছে এবং এটি উল্লেখযোগ্য প্রস্তাব। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। কিন্তু তা যথেষ্ট নয়। যুদ্ধটা খুব দ্রুত শেষ হয়ে যেতে পারে, যদি তারা তাদের করণীয় কাজগুলো করে। তাদের কিছু নির্দিষ্ট কাজ করতেই হবে। তারা সেটা জানে, আমার মনে হয় তারা সৎ উদ্দেশ্যেই আলোচনা করে আসছে।’
সমালোচকরা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র বেসামরিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালালে যুদ্ধাপরাধ হবে— এই বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি এটা নিয়ে চিন্তিত নই। আপনারা জানেন যুদ্ধাপরাধ কী? পারমাণবিক অস্ত্র থাকা।’
যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছেন, তার কাছে ‘অনেক বিকল্প’ রয়েছে।
এরআগে চুক্তি করার জন্য ইরানকে দেওয়া প্রাথমিক সময়সীমা বাড়িয়েছিলেন, তিনি আবার তা করবেন কিনা?— জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, ‘অত্যন্ত অসম্ভাব্য। তারা যথেষ্ট সময় পেয়েছে। আসলে, তারা সাত দিন চেয়েছিল। আমি বলেছি, আমি তোমাদের দশ দিন দেব। কিন্তু দশ দিন শেষে যদি তোমরা লক্ষ্যে না পৌঁছাও, তাহলে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করবে।’
বিজ্ঞাপন
তিনি বলেন, ‘আমরা এখনই চলে যেতে পারি এবং তাদের যা ছিল তা পুনর্গঠন করতে ১৫ বছর সময় লাগবে। আমরা এখনই চলে যেতে পারতাম। কিন্তু আমি এটি শেষ করতে চাই। ইরান...পারমাণবিক অস্ত্র রাখতে পারবে না।’’
মার্কিন বাহিনী ইরানকে ‘নিশ্চিহ্ন’ করে দিচ্ছে উল্লেখ করে ট্রাম্প আরও বলেন, ‘এটা করতে আমার খারাপ লাগছে – কিন্তু আমরা এটাকে নিশ্চিহ্ন করে দিচ্ছি... তাদের কোনো সেতু থাকবে না, কোনো বিদ্যুৎকেন্দ্র থাকবে না। তাদের কিছুই থাকবে না। আমি এর বেশি কিছু বলব না, কারণ এর চেয়েও খারাপ আরও অনেক কিছু আছে।’
ইরানের বিশাল তেল সম্পদের দখল নেওয়ার বিষয়ে ট্রাম্প বলেছেন, ‘এটি দখল করার মতোই অবস্থায় আছে। এ বিষয়ে তাদের (ইরানের) কিছুই করার নেই।’
তিনি বলেন, ‘দুর্ভাগ্যবশত, আমেরিকার মানুষ চায় আমরা দেশে ফিরে আসি। এটি আমার ওপর নির্ভর করলে আমি তেল নিয়ে নিতাম। আমি তেল নিজের কাছে রাখতাম। আমি প্রচুর অর্থ উপার্জন করতাম।’
চলমান যুদ্ধের বিরোধীকারী আমেরিকানদের তিনি কী বলবেন, এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘তারা বোকা। কারণ এই যুদ্ধের মূল বিষয় একটাই – ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারবে না।’
এরআগে এরআগে সোমবার তেহরানে এক সংবাদ সম্মেলনে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই যুক্তরাষ্ট্রের ১৫-দফা যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান এবং এটিকে ‘অযৌক্তিক’ ও অগ্রহণযোগ্য বলে বর্ণনা করেছেন।
তিনি বলেন, ‘ইরান পূর্বেই তার অবস্থান স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে। সময়সীমা বেঁধে দেওয়া বা যুদ্ধাপরাধের হুমকি দিয়ে আলোচনায় বসা যায় না। এ ধরনের পরিস্থিতির সঙ্গে আলোচনা একেবারেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।’
বাঘাই বলেন, ‘অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির অর্থ হলো একটি সুযোগ সৃষ্টি করা, যাতে শত্রু পক্ষ তাদের শক্তি পুনর্গঠন করে আবারো হামলা করতে পারে। কোনো সুস্থ ব্যক্তিই এমন পদক্ষেপ মেনে নেবে না।’
তিনি আরও বলেন, মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে পাওয়া প্রস্তাবগুলোর পরিপ্রেক্ষিতে তেহরান তার জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে কিছু নির্দিষ্ট শর্ত নির্ধারণ করেছে এবং তা ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানি তিনি।
সূত্র: রয়টার্স, আলজাজিরা
এমএইচআর

