সোমবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

আর্টেমিস-২ মিশন: চাঁদের যে অংশ মানুষ আগে দেখেনি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৪৮ পিএম

শেয়ার করুন:

আর্টেমিস-২ মিশন: চাঁদের যে অংশ মানুষ আগে দেখেনি
মিশনের তৃতীয় দিনে তোলা এই ছবির নিচের বাম পাশে চাঁদের ‘ওরিয়েন্টাল বেসিন’ স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে। ছবি: নাসা

আর্টেমিস-২ মিশনে চার নভোচারী চাঁদ প্রদক্ষিণ করে এমন অঞ্চল পর্যবেক্ষণ করবেন, যা আগে কোনো মানুষ সরাসরি দেখেনি। চাঁদের দূরবর্তী দিকসহ এর সামগ্রিক বৈশিষ্ট্য নতুনভাবে বোঝার সুযোগ তৈরি হবে এই অভিযানে।

সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়, আজ সোমবার বহুল প্রতীক্ষিত এই মিশনে নভোচারীরা চাঁদের এমন সব অংশ দেখবেন, যা সবসময় পৃথিবীর বিপরীত দিকে থাকে এবং মানুষ আগে সরাসরি চোখে দেখেনি।


বিজ্ঞাপন


ইতোমধ্যে চাঁদের কাছে পৌঁছানোর পথে নভোচারীরা ‘মুন জয়’ নামে পরিচিত এক অভিজ্ঞতা পেয়েছেন বলে জানিয়েছে হিউস্টনের মিশন কন্ট্রোল। ৪০০ মিলিমিটার লেন্সের ক্যামেরা ব্যবহার করে তারা যাত্রাপথের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ দূর থেকেই গহ্বর ও বিভিন্ন ভূপ্রকৃতি শনাক্ত করতে পেরেছেন।

এর মধ্যে রয়েছে বিশাল ‘ওরিয়েন্টাল বেসিন’, যার বিস্তৃতি প্রায় ৯৬৫ কিলোমিটার। এই গহ্বরটি চাঁদের নিকট ও দূরবর্তী অংশের মাঝামাঝি একটি গুরুত্বপূর্ণ রূপান্তর এলাকা, যা আগে মানুষের চোখে দেখা হয়নি।

নভোচারী ক্রিস্টিনা কচ সিএনএনকে বলেন, ‘আমরা এখন যে চাঁদ দেখছি, তা পৃথিবী থেকে দেখা চাঁদের মতো একেবারেই নয়।’

Moon2
চতুর্থ দিনের ছবিতে চাঁদের ডিস্কের মাঝখান ও ডান পাশে দেখা কালচে অঞ্চলগুলো প্রাচীন লাভা প্রবাহ। ছবি: নাসা

বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, চাঁদ থেকে প্রায় ৪ হাজার ৭০ মাইল দূর থেকেও নভোচারীরা অনেক সূক্ষ্ম বৈশিষ্ট্য দেখতে পারবেন। আর্টেমিস-২-এর অ্যাসেন্ট ফ্লাইট ডিরেক্টর জুড ফ্রিলিং বলেন, ‘৪ হাজার মাইল দূর থেকেও মানুষের চোখ এমন কিছু সূক্ষ্ম বিষয় ধরতে পারে, যা গবেষণার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ।’

সিএনএন জানায়, অ্যাপোলো মিশনের নভোচারীরাও চাঁদের দূরবর্তী দিকের কিছু অংশ দেখেছিলেন। তবে তখন মিশনগুলো এমন সময়ে করা হয়েছিল, যখন চাঁদের নিকটবর্তী অংশ সূর্যের আলোয় আলোকিত ছিল। ফলে কক্ষপথে থাকার সময় দূরবর্তী অংশ অন্ধকারে থাকত।

নাসার সায়েন্স মিশন ডিরেক্টরেটের প্রধান কেলসি ইয়াং সিএনএনকে বলেন, ‘অ্যাপোলো মিশন এমন সময় করা হয়েছিল, যখন চাঁদের কাছের দিক আলোকিত ছিল। তাই কক্ষপথে থাকার সময় দূরের দিকটি আলোকিত ছিল না।’

সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়, আর্টেমিস-২-এর ওরিয়ন ক্যাপসুল ‘ইন্টিগ্রিটি’ চাঁদের তুলনায় অনেক দূর দিয়ে উড়বে। অ্যাপোলো মিশনে যেখানে চাঁদের পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১১২ কিলোমিটার উচ্চতায় ঘোরা হয়েছিল, সেখানে এই মিশনে নিকটতম দূরত্ব হবে প্রায় ৪ হাজার ৭০ মাইল। এতে নভোচারীদের কাছে চাঁদ হাতের সামনে ধরা একটি বাস্কেটবলের মতো দেখাবে।

ইয়াং বলেন, এই মিশনের বড় সুবিধা হলো পুরো চাঁদ একসঙ্গে দেখা যাবে। এতে চাঁদের ইতিহাস, বিশেষ করে গহ্বর তৈরির প্রক্রিয়া ও ভেতরের গঠন সম্পর্কে নতুন তথ্য পাওয়া যেতে পারে।

তিনি আরো বলেন, ‘পৃথিবীতে আমাদের যে পুরোনো ইতিহাস আর খুঁজে পাওয়া যায় না, সেই সময়ের অনেক চিহ্ন চাঁদে এখনো রয়ে গেছে।’

১৯৭২ সালে অ্যাপোলো-১৭ মিশনে নভোচারী হ্যারিসন স্মিথ চাঁদের মাটিতে কমলা রঙের অংশ খুঁজে পান। পরে জানা যায়, এতে বোঝা যায় চাঁদে আগ্নেয়গিরির কার্যকলাপ ধারণার চেয়ে বেশি সময় ধরে চলেছিল।

ইয়াং বলেন, ‘আমরা চাই নভোচারীরা রঙের ছোট ছোট পার্থক্যগুলো খেয়াল করুক, বিশেষ করে চাঁদের সেই অংশে, যা আগে কেউ দেখেনি।’

চাঁদের কাছের অংশে পাতলা ভূত্বক, নিচু ভূমি এবং আগ্নেয়গিরির চিহ্ন বেশি দেখা যায়। অন্যদিকে দূরের অংশে ভূত্বক মোটা, ভূমি উঁচু এবং আগ্নেয় কার্যকলাপের প্রমাণ কম।

ফ্লাইবাইয়ের সময় ভিন্ন আলো ব্যবহার করে ফটোমেট্রি পদ্ধতিতেও তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এ জন্য নভোচারীরা প্রশিক্ষণে বিভিন্ন কোণ থেকে আলো ফেলে বালুর টেক্সচার ও রঙ বিশ্লেষণ করার অনুশীলন করেছেন।

ইয়াং বলেন, ‘এই মিশনে আমরা সূর্যকে সরাতে পারি না, কিন্তু ইন্টিগ্রিটিকে সরাতে পারি।’

ফ্লাইবাইয়ের সময় প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ধরে নভোচারীরা চাঁদ পর্যবেক্ষণ করবেন। তারা তিনটি নিকন ক্যামেরা দিয়ে গহ্বর ও পুরোনো লাভা প্রবাহের ছবি তুলবেন এবং জনসন স্পেস সেন্টারের বিজ্ঞানীদের কাছে সরাসরি বর্ণনা দেবেন।

ইয়াং বলেন, ‘নভোচারীরা যখন চাঁদের দৃশ্য বর্ণনা করবেন, তা শুধু বিজ্ঞানীদের জন্য নয়, পৃথিবীতে থাকা সাধারণ মানুষের কাছেও সেই অভিজ্ঞতা পৌঁছে দেবে।’

এফএ

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর