শনিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

ইরান যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ৭ বিমান হারিয়েছে মার্কিন বিমান বাহিনী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৫৮ পিএম

শেয়ার করুন:

ইরান যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ৭ বিমান হারিয়েছে মার্কিন বিমানবাহিনী

চলমান ইরান যুদ্ধে বেশ কয়েকটি যুদ্ধবিমান ধ্বংসের পাশাপাশি ইরান ১৬০টিরও বেশি ড্রোন ও কয়েক ডজন ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করেছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। সর্বশেষ দুটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার পর মোট ধ্বংস হওয়া মার্কিন বিমানের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে অন্তত সাতটিতে।

শুক্রবার ইরানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্রের একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করেছে। তারা আরও জানায়, একই দিনে একটি মার্কিন এ-১০ বিমানকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে যা পরে উপসাগরে বিধ্বস্ত হয়। হামলায় ভূপাতিত এফ-১৫ই যুদ্ধবিমানের নিখোঁজ পাইলটদের উদ্ধারে গিয়ে হামলার মুখে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি সামরিক হেলিকপ্টারও।


বিজ্ঞাপন


ইরানের আকাশসীমায় ভূপাতিত মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের একজন পাইলটকে রুদ্ধশ্বাস অভিযানের মাধ্যমে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে বিমানের দ্বিতীয় ক্রু সদস্যের খোঁজে এখনো ইরানের অভ্যন্তরে গহীন এলাকায় তল্লাশি চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনী। খবর জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম টেলিগ্রাফ এবং বিবিসি।

তবে নিখোঁজ পাইলটকে উদ্ধারে যেকোনো মার্কিন অভিযান ‘অত্যন্ত বিপজ্জনক’ হবে বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক নৌ-কর্মকর্তা এবং আটলান্টিক কাউন্সিলের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা হারলান উলম্যান। আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই সতর্কবার্তা দেন।

শুক্রবার আলাদা দুটি ঘটনায় দুটি মার্কিন যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর মোট ক্ষতিগ্রস্ত মানবচালিত বিমানের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে সাতটিতে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরুর পর থেকে এ ধরনের ক্ষয়ক্ষতি ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে।

২ মার্চ কুয়েতের আকাশসীমায় উড্ডয়নকালে দেশটির বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ভুলবশত চালানো গোলাবর্ষণে তিনটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়। ‘ফ্রেন্ডলি ফায়ার’ হিসেবে পরিচিত এই ঘটনায় বিমানের ছয়জন ক্রু সদস্যই নিরাপদে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন। পরে মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ জানান, ওই পাইলটরা সুস্থ হয়ে আবারও ইরানে হামলায় অংশ নিচ্ছেন।


বিজ্ঞাপন


এরপর ১২ মার্চ ইরাকে একটি কেসি-১৩৫ জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ছয়জন মার্কিন ক্রু সদস্য নিহত হন। মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, এটি কোনো হামলার কারণে নয়; বরং ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ চলাকালে অন্য একটি বিমানের সঙ্গে জড়িত একটি ঘটনার প্রেক্ষাপটে দুর্ঘটনাটি ঘটে। সংশ্লিষ্ট দ্বিতীয় বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করতে পেরেছিল।

২৭ মার্চ সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে ইরানের হামলায় রানওয়েতে থাকা একটি ই-৩ সেন্ট্রি নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ বিমান ধ্বংস হয়ে যায়। যাচাইকৃত ছবিতে দেখা যায়, ওই হামলায় অন্তত ১০ জন মার্কিন সেনাসদস্য আহত হন, তবে কোনো প্রাণহানি ঘটেনি। একই হামলায় আরও একটি জ্বালানি সরবরাহকারী বিমানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।

গত মাসে মধ্যপ্রাচ্যের একটি ঘাঁটিতে একটি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান জরুরি অবতরণ করতে বাধ্য হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিমানটি সম্ভবত ইরানের কোনো হামলার শিকার হয়েছিল।

সবশেষে শুক্রবার পৃথক দুটি ঘটনায় একটি এফ-১৫ ও একটি এ-১০ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়, যার ফলে ইরান যুদ্ধে মার্কিন বাহিনীর ক্ষতিগ্রস্ত বিমানের সংখ্যা পৌঁছায় সাতটিতে।

এদিকে, যুদ্ধবিমান ধ্বংসের পাশাপাশি ইরান অনেকগুলো মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করেছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। ইরানের ইসফাহান প্রদেশের আকাশে একটি মার্কিন ড্রোন গুলি করে নামানোর দাবি করেছে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। আজ শনিবার (৪ এপ্রিল) ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফারস নিউজ এই তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইআরজিসি’র অত্যন্ত আধুনিক ও উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ‘এমকিউ-১’ মডেলের ওই ড্রোনটি শনাক্ত করার পর তা ভূপাতিত করা হয়।

এফএ

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর