চীনের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে বৈঠকে বসল পাকিস্তান এবং আফগানিস্তান। ডিসেম্বরে সৌদি আরবের রিয়াদে বৈঠকের পরে এই প্রথমবার দুই পক্ষ আবার মুখোমুখি হল।
গত বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) থেকে চীনের শিনজিয়াং প্রদেশের রাজধানী উরুমকিতে শুরু হয়েছে কূটনৈতিক স্তরের ওই বৈঠক।
বিজ্ঞাপন
প্রসঙ্গত, দীর্ঘদিন ধরেই চীন থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার দাবিতে আন্দোলন চালাচ্ছেন শিনজিয়াঙের বাসিন্দা উইঘুর মুসলিমেরা।
চলতি সপ্তাহের গোড়ায় পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার চীন সফরে গিয়ে সে দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইর সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন।
এর পরেই দু’দেশের যৌথ বিবৃতিতে আলোচনার মাধ্যমে ডুরান্ড লাইনের (পাক-আফগান সীমান্ত) সমস্যার সমাধানের কথা বলা হয়েছিল।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, আফগানিস্তানের সঙ্গে আলোচনায় শান্তি, স্থিতিশীলতা ও কার্যকরভাবে সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা করেছেন।
বিজ্ঞাপন
গত অক্টোবর থেকে কাতার, তুরস্ক ও সৌদি আরবে চার দফা শান্তি আলোচনা হলেও পাক-আফগান সম্পর্কে উত্তেজনার আঁচ কমেনি।
গত এক বছরে দফায় দফায় দু’তরফের সংঘর্ষ হয়েছে। তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানসহ জঙ্গি গোষ্ঠীগুলি আফগান তালেবানের একাংশের মদতে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস চালাচ্ছে বলে ইসলামাবাদের অভিযোগ।
গত ২১ ফেব্রুয়ারি আফগানিস্তানের নাঙ্গরহর এবং পকতিকা প্রদেশের কয়েকটি জায়গায় ব্যাপক বোমাবর্ষণ করেছিল পাকিস্তান। সেই হামলায় বহু সাধারণ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।
পাকিস্তানের দাবি, আফগানিস্তানে সক্রিয় তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) জঙ্গিদের বেশ কয়েকটি ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তালেবান সেই অভিযোগ উড়িয়ে নিরীহ গ্রামবাসীদের হত্যার অভিযোগ তুলেছে ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে।
ওই ঘটনার পর থেকে দফায় দফায় ডুরান্ড লাইনের বিভিন্ন এলাকায় পাক সেনা এবং আফগান বাহিনীর সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে।
আফগান তালেবান জানিয়েছে, তারা প্রতিশোধ নিতে বদ্ধপরিকর। অন্য দিকে, ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে স্থল এবং আকাশপথে ডুরান্ড লাইনের ওপারে নতুন করে হামলা শুরু করেছে পাক বাহিনী।
সেই অভিযানের নাম ‘অপারেশন গজব লিল হক’। ২৬০০ কিলোমিটারেরও বেশি দীর্ঘ ডুরান্ড লাইনের অন্তত ৫৩টি স্থানে এ পর্যন্ত দু’পক্ষের সংঘর্ষ হয়েছে।
পাক যুদ্ধবিমানের হামলায় ধ্বংস হয়েছে আফগানিস্তানের একাধিক হাসপাতাল এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।
-এমএমএস

