একদিনে দ্বিতীয় মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে ইরান। বিধ্বস্ত বিমানের ধ্বংসাবশেষের ছবি প্রকাশ করেছে ইরানের আধা-সরকারি বার্তাসংস্থা তাসনিম নিউজ।
প্রতিবেদনে বলা হয়, শুক্রবার ইরান সম্ভবত আরও একটি শত্রুভাবাপন্ন মার্কিন-ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে। যেহেতু ছবিতে কেবল একটি ইঞ্জিনের ধোঁয়া দেখা যাচ্ছে, তাই ধরে নেওয়া যেতে পারে যে ভূপাতিত যুদ্ধবিমানটি একটি এফ-১৬ বা এফ-৩৫; তবে এফ-১৬ হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
বিজ্ঞাপন
তাসনিম নিউজ আরও জানিয়েছে, শুক্রবার রাতভর তেহরানসহ ইরানের বেশ কয়েকটি শহরের ওপর দিয়ে উড়ে যাওয়ার সময় ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর বিমান প্রতিরক্ষা ইউনিটের ভারী গুলিবর্ষণের মুখে পড়ে বেশ কয়েকটি যুদ্ধবিমান।
এই যুদ্ধবিমানগুলোর মধ্যে কয়েকটি ফ্লেয়ার নিক্ষেপ করে বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনীর গোলাবর্ষণ এড়ানোর চেষ্টা করেছিল, কিন্তু যুদ্ধবিমানগুলোর মধ্যে একটি সম্ভবত গুলি করে ভূপাতিত করা হয়েছিল।
যদিও এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি ইরানের ইসলামীক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।
এরআগে আইআরজিসি দাবি করে, শুক্রবার সকালে মধ্য ইরানের আকাশে তাদের নতুন উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে একটি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান ধ্বংস করা হয়েছে। তবে এর পাইলট বিমান থেকে বেরিয়ে এসে ইরানের মাটিতে অবতরণ করেন। ওই পাইলট জীবিত আছেন নাকি নিহত হয়েছেন সেটি এখনো স্পষ্ট নয়।
বিজ্ঞাপন
এদিকে ইরানি রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রকাশিত বিমানের ধ্বংসাবশেষের ছবি দেখে ধারণা করা হচ্ছে এফ-৩৫ নয় এটি একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান। এক্ষেত্রে যদি এটি একটি এফ-৩৫ হয়, যেটিতে একটি আসন রয়েছে, সেখানে কেবল একজন পাইলটই থাকার কথা। আর যদি এটি একটি এফ-১৫ হয়, যার দুটি আসনে দুইজন পাইলট থাকতে পারে। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।
তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) একটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার পর যুক্তরাষ্ট্র তাদের পাইলটদের সন্ধানে তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এই অভিযানে ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার এবং একটি সি-১৩০ হারকিউলিস বিমান অংশ নিচ্ছে; তবে, তাদের প্রচেষ্টা এখন পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছে। ভূপাতিত পাইলট বা ক্রুদের অবস্থান এখনো মার্কিন বাহিনীর নাগালের বাইরে রয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা মেহর নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, এ অভিযানে গিয়ে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শিকার হয়েছে একটি মার্কিন হেলিকপ্টারও। তবে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা বা হতাহতের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
তবে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউজম্যাক্স দেশটির সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, আঘাতপ্রাপ্ত হেলিকপ্টারটি একটি ব্ল্যাক হক ছিল এবং সেটি ইরানের আকাশসীমা ছেড়ে নিরাপদে অবতরণ করতে সক্ষম হয়েছে।
অন্যদিকে সূত্রের বরাত দিয়ে এক্সিওস জানিয়েছে, বিমানটির ২ জন ক্রু’র মধ্যে একজনকে ইতোমধ্যে উদ্ধার করেছে মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর বিশেষ শাখা ইউএস স্পেশাল ফোর্স। আরেক একজনের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি, তবে তার সন্ধান পেতে জোর তৎপরতা জারি আছে।
আরেক মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, ভূপাতিত হওয়া বিমানটি ছিল মার্কিন বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমান এফ-১৫ই ছিল। এতে যে দু’জন ক্রু ছিলেন তাদের মধ্যে একজন ছিলেন পাইলট এবং অপরজন ছিলেন উইপন-সিস্টেম কর্মকর্তা। তবে যাকে উদ্ধার করা হয়েছে, তিনি পাইলট নাকি উইপন-সিস্টেম কর্মকর্তা— তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
সূত্র: তাসনিম নিউজ
এমএইচআর

