বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি যুক্তরাষ্ট্র সহজেই খুলে দিতে পারবে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ একটি পোস্টে তিনি বলেছেন, “আর একটু সময় পেলেই আমরা সহজেই হরমুজ প্রণালি খুলে দিয়ে, (ইরানের) তেলের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারব এবং প্রচুর অর্থ উপার্জন করতে পারব। এটি কি বিশ্বের জন্য একটি তেলের খনি হবে না?”
বিজ্ঞাপন
প্রসঙ্গত, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধের জেরে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল পরিবহনের সমুদ্র পথ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। এতে জ্বালানির আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্য সরবরাহে ব্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছে এবং জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রণালী খুলে না দিলে তিনি ইরানের বিদ্যুৎ গ্রিডে হামলা চালাবেন। পরে ‘ফলপ্রসূ আলোচনা’র কথা বলে তিনি প্রথমে ৫ দিনের জন্য সময় বাড়ান। পরে গত বৃস্পতিবার সেটি দ্বিতীয়বারের মতো বাড়িয়ে ১০ দিন অর্থাৎ আগামী ৬ এপ্রিল নির্ধারণ করেছেন তিনি। যদিও এবিষয়ে কোনো ধরনের আলোচনার কথা অস্বীকার করেছে ইরান।
এদিকে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল পুনরুদ্ধার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ৪০ দেশের একটি জোট গঠিত হয়েছে। যুক্তরাজ্যের নেতৃত্বে আয়োজিত ভার্চুয়াল সম্মেলনে দেশগুলো এই জলপথে অবরোধ বন্ধের দাবি জানায় এবং নিরাপদ নৌচলাচল নিশ্চিতে যৌথভাবে কাজ করার অঙ্গীকার করে।
বৃহস্পতিবার সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বৈঠকে বসেন। বৈঠকে গৃহীত যৌথ বিবৃতিতে ইরানকে অবরোধ তুলে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে প্রণালিটি দিয়ে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।
বিজ্ঞাপন
সম্মেলনের সভাপতিত্ব করেন যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপার। তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ রাখার মাধ্যমে ইরান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক নিরাপত্তাকে বিঘ্নিত করছে। তার মতে, একটি আন্তর্জাতিক নৌপথ নিয়ন্ত্রণ করে বিশ্ব অর্থনীতিকে কার্যত জিম্মি করে রাখা হয়েছে। উদ্বোধনী বক্তব্যের পর বৈঠকের বাকি অংশ রুদ্ধদ্বার কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়।
এদিকে সম্মেলনে ৪০টি দেশ অংশ নিলেও যুক্তরাষ্ট্র এতে যোগ দেয়নি।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, এই জলপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যুক্তরাষ্ট্রের দায়িত্ব নয়। তিনি ইউরোপীয় মিত্রদের সমালোচনা করে ন্যাটো থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নেওয়ার হুমকিও পুনর্ব্যক্ত করেন।
সূত্র: আলজাজিরা
এমএইচআর

