কুয়েতের তেল শোধনাগারে, পানি পরিশোধন কেন্দ্রে ভয়াবহ ড্রোন হামলার পর দেশটিতে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করছে যুক্তরাজ্য।
শুক্রবার সকালে কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স শেখ মিশাল আল-আহমেদ আল সাবাহর সাথে এক ফোনালাপে এই ধরনের হমলাকে ‘বেপরোয়া’ আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার। একই সঙ্গে দেশটিতে যুক্তরাজ্যের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন নিয়ে আলোচনা করেছেন দুই নেতা।
বিজ্ঞাপন
ডাউনিং স্ট্রিটের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী স্টারমার কুয়েত এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের মিত্রদের পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
তিনি বলেন, ‘এই আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েনের লক্ষ্য হলো কুয়েতি ও ব্রিটিশ কর্মীদের পাশাপাশি এই অঞ্চলে আমাদের স্বার্থ রক্ষা করা। একইসাথে এটি যাতে কোনোভাবেই বড় ধরনের যুদ্ধে রূপ না নেয়, সেদিকেও নজর রাখা হচ্ছে।’
মুখপাত্র আরও জানান, ফোনালাপে উভয় নেতা ‘হরমুজ প্রণালি’ পুনরায় সচল করার বিষয়ে একমত হয়েছেন।
এর আগে গত মঙ্গলবার ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হিলি ঘোষণা করেছিলেন, কুয়েতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে একটি ‘র্যাপিড সেন্ট্রি’ আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ইতিমধ্যে সেখানে পৌঁছেছে।
বিজ্ঞাপন
ডাউনিং স্ট্রিট স্পষ্ট করেছে, ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে কুয়েতের অবকাঠামো রক্ষা করতেই এই দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এটি এই অঞ্চলে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার একটি অংশ হিসেবে নেওয়া হয়েছে।
এদিকে বৃহস্পতিবার রাত থেকে মুরু হওয়া এই সব হামলা ইরান চালিয়েছে বলে খবর প্রকাশ করে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম। তবে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড (আইআরজিসি) এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।
আইআরজিসির দাবি, কুয়েতের তেল শোধনাগার, পানি ও বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ইরান নয় বরং দখলদার ইসরায়েলই এ হামলা চালিয়েছে।
এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে আইআরজিসি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘কুয়েতের পানি পরিশোধন কেন্দ্রে ইহুদিবাদীদের (ইসরায়েলের) এই অবৈধ ও নজিরবিহীন হামলা তাদের চরম নীচতা ও হীনম্মন্যতারই প্রমাণ। বিপ্লবী গার্ড এই অমানবিক কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে স্পষ্ট ঘোষণা করেছে যে—এই অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি ও সেনা সদস্যসহ অধিকৃত ফিলিস্তিনের ভেতর ইহুদিবাদীদের সামরিক ও নিরাপত্তা কেন্দ্রগুলো এখন আমাদের শক্তিশালী নিশানায় রয়েছে।’
সূত্র: বিবিসি, আলজাজিরা
এমএইচআর

