যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য স্থল অভিযানের বিরুদ্ধে ৭০ লাখের বেশি বেসামরিক ইরানি অস্ত্র হাতে তুলে নিতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘ইরান যুদ্ধ চায় না, কিন্তু আক্রান্ত হলে দৃঢ়ভাবে আত্মরক্ষা করবে। যখন দেশের প্রতিরক্ষা বিপন্ন হয়, তখন সকল ইরানি সৈনিকের মতো কাজ করতে প্রস্তুত থাকে।’
বিজ্ঞাপন
গালিবাফ বলেন, ‘যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে দেশজুড়ে শক্তিশালী আন্দোলন গড়ে উঠেছে, যেখানে প্রায় ৭০ লাখ ইরানি দেশের প্রতিরক্ষায় ইতোমধ্যে অস্ত্র হাতে তুলে নিতে প্রস্তুত বলে ঘোষণা দিয়েছেন।’
ইরানের ওপর যেকোনো হামলার সম্মিলিত জবাব দেওয়া হবে বলে মার্কিন সেনাদের হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনি যেহেতু আমাদের বাড়িতে আসছেন... আপনাকে পুরো পরিবারের সঙ্গেই দেখা করতে হবে।’
Listen up...
— محمدباقر قالیباف | MB Ghalibaf (@mb_ghalibaf) April 2, 2026
You Come for Our Home…
You Meet the Whole Family. pic.twitter.com/5raQK72IvH
ইরানি স্পিকার আরও বলেন, ‘মাতৃভূমি রক্ষার বিষয়ে ইরানিরা কেবল কথার কথা বলে না; তারা অতীতেও জীবন উৎসর্গ করেছেন এবং আবারও তা করতে প্রস্তুত, সশস্ত্র ও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।’
বিজ্ঞাপন
মূলত, বুধবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকির জবাবেই প্রতিক্রিয়া জানান ইরানি স্পিকার।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছিলেন, “২ থেকে ৩ সপ্তাহের মধ্যে ইরানে বড় আঘাত হানবে যুক্তরাষ্ট্র। আমরা তাদের ‘প্রস্তর যুগে’ ফিরিয়ে নিয়ে যাব, যেখানে তাদের থাকা উচিত। মার্কিন বাহিনী ‘খুব, খুব শীঘ্রই’ তাদের যুদ্ধক্ষেত্রের সমস্ত লক্ষ্য পূরণ করবে।”
এদিকে গালিবাফের মতো উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার এই ঘোষণার পর বিশ্লেষকরা ধারণা করেছেন- ইরানি সরকার ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে লড়াই করতে জনগণকে স্বেচ্ছাসেবী হওয়ার ব্যাপক আহ্বান জানিয়েছে। বেসামরিক নাগরিক ছাড়াও অবসরপ্রাপ্ত সৈন্যদেরও যুদ্ধে অংশগ্রহণের জন্য ডাকা হতে পারে বলেও জানা গেছে।
প্রসঙ্গত, ২০২৪-২৫ সালের গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ারের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৯ কোটি জনসংখ্যার দেশ ইরানের প্রায় ৬ লাখ ১০ হাজার সক্রিয় সামরিক কর্মী এবং প্রায় ৩ লক্ষ ৫০ হাজার রিজার্ভ সৈন্য রয়েছে। ইরানে মূলত দুটি আলাদা সেনাবাহিনী কাজ করে—একটি হলো নিয়মিত সামরিক বাহিনী বা 'আরতেশ' এবং অন্যটি প্রভাবশালী 'ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস' (আইআরজিসি)। এছাড়াও আইআরজিসির আওতাধীন আধাসামরিক বাহিনী ‘বাসিজ ফোর্সের’ ৯০ হাজার থেকে ১ লাখ নিয়মিত সদস্য এবং কয়েক লাখ রিজার্ভ সদস্য রয়েছে।
সূত্র: তাসনিম নিউজ
এমএইচআর

