ইরানের রাজধানী তেহরানে অবস্থিত শতবর্ষী চিকিৎসা গবেষণা কেন্দ্র ‘পাস্তুর ইনস্টিটিউট অব ইরান’-এ হামলা চালানো হয়েছে। তবে হামলাটি যুক্তরাষ্ট্র না ইসরায়েল চালিয়েছে তা এখনো স্পষ্ট নয়।
বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে এক পোস্টে ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হোসেন কেরমানপুর বলেছেন, শত্রুদের হামলায় ১৯২০ সালে প্রতিষ্ঠিত চিকিৎসা গবেষণা কেন্দ্রটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
পোস্টে ক্ষতিগ্রস্ত ওই চিকিৎসা কেন্দ্রের কিছু ছবিও শেয়ার করেছেন তিনি। এতে দেখা গেছে, ভবনটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত এবং এর কিছু অংশ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
The aggression against Pasteur Institute of Iran—a century-old pillar of global health & member of International Pasteur Network—is a direct assault on international health security. This violates Geneva Conventions & IHL principles. We call on @WHO @ICRC & global health bodies… pic.twitter.com/80mv8qgcnq
— حسین کرمانپور Hossein.Kermanpour (@HKermanpour) April 2, 2026
শতবর্ষী প্রতিষ্ঠানকে ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য ব্যবস্থার অন্যতম স্তম্ভ’ হিসেবে অভিহিত করে কেরমানপুর আরও বলেছেন, এই হামলা আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য নিরাপত্তার ওপর সরাসরি আঘাত। এই ইনস্টিটিউটটি বিশ্ব স্বাস্থ্যের শতবর্ষী এক স্তম্ভ এবং আন্তর্জাতিক পাস্তুর নেটওয়ার্কের সদস্য।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, পাস্তুর ইনস্টিটিউট অব ইরানের ওপর এই আগ্রাসন জেনেভা কনভেনশন এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের চরম লঙ্ঘন।
বিজ্ঞাপন
এদিকে ইরানি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির তথ্য মতে, এক মাস ধরে চলা যুদ্ধে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানে ১ লাখ ১৩ হাজারেরও বেশি বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ৯০ হাজার ৬৩টি আবাসিক ভবন, ২১ হাজার ৫৯টি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এবং ৭৬০টি শিক্ষাকেন্দ্র।
অন্যদিকে ইরানের সংস্কৃতি ও পর্যটন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ৫৬টি জাদুঘর ও ঐতিহাসিক স্মৃতিস্তম্ভসহ দেশটির ঐতিহ্যবাহী স্থানগুলোতেও হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। ক্ষতিগ্রস্ত স্থানগুলোর মধ্যে— ইসফাহানের সপ্তদশ শতাব্দীর ‘চেহেল সোতুন প্রাসাদ’ এবং ইরানের প্রাচীনতম জুমার মসজিদ ‘মাসজিদ-ই জামে’ রয়েছে।
ইরানের সংস্কৃতি ও পর্যটন মন্ত্রী রেজা সালেহি আমিরি বলেছেন, এই ধরনের হামলাগুলো কোনো আইনি ভিত্তি ছাড়াই ইরানি পরিচয়ের ওপর একটি “পরিকল্পিত ও ইচ্ছাকৃত আক্রমণের” অংশ।
আমিরি আরও বলেন, ‘আজ আমরা সেই নৈতিক ও আইনি নিয়মগুলোর সম্পূর্ণ পতন দেখছি, যা আগে সংঘাতগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করত।’
সূত্র: আলজাজিরা
এমএইচআর

