বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

স্থল অভিযান হলে ‘একজনও যেন বাঁচতে না পারে’: ইরানি সেনাপ্রধান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০২ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:১০ পিএম

শেয়ার করুন:

hatami
ইরানের সেনাবাহিনীর কমান্ডার মেজর জেনারেল আমির হাতামি

ইরানের বিরুদ্ধে শিগগিরিই স্থল অভিযান শুরু করতে পারে মার্কিন বাহিনী— এমন সম্ভাবনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের সেনাবাহিনীর কমান্ডার মেজর জেনারেল আমির হাতামি। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, শত্রুরা যদি ইরানের বিরুদ্ধে স্থল অভিয়ানের চেষ্টা করে, তাদের একজনও বেঁচে ফিরবে না। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ইরানি সেনাবাহিনীকে প্রস্তুত এবং পরিকল্পনার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (০২ এপ্রিল) সেনাবাহিনীর একটি কমান্ড ও কন্ট্রোল কেন্দ্র থেকে দেওয়া এক অনলাইন ভাষণে মেজর জেনারেল হাতামি দেশজুড়ে দেশটির সেনাবাহিনীর স্থল, বিমান প্রতিরক্ষা, বিমান এবং নৌবাহিনীর কমান্ডারদের উদ্দেশে এ কথা বলেন।


বিজ্ঞাপন


ইরানি সেনাপ্রধান বলেন, শত্রুদের যেকোনো প্রতিকূল পদক্ষেপ মোকাবেলার জন্য ইরানি সেনাবাহিনী আক্রমণাত্মক ও প্রতিরক্ষামূলক উভয় ক্ষেত্রেই সম্পূর্ণরূপে প্রস্তুত। 

সেনা কমান্ডারদের সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে শত্রুর গতিবিধি ও কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণ করতে, প্রতি মুহূর্তে তা বিশ্লেষণ করতে এবং সঠিক সময়ে শত্রুর আক্রমণের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণ করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

জেনারেল হাতামি জোর দিয়ে বলেন, শত্রুর স্থল আক্রমণের ক্ষেত্রে ‘একজন ব্যক্তিও যেন বেঁচে না থাকে’, আক্রমণকারীদের প্রতি ‘কোনো ক্ষমা নেই’ নীতির প্রতিফলন করা হবে।

ইরানের কৌশলগত লক্ষ্য তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, দেশ থেকে যুদ্ধের ছায়া অবশ্যই দূর করতে হবে এবং সকল নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। 

তিনি বলেন, ‘যতক্ষণ পর্যন্ত ইরানিরা নিরাপত্তাহীনতায় থাকবে, ততক্ষণ কোনো এলাকা যেন অরক্ষিত না থাকে।’ তিনি উল্লেখ করেন, শত্রুদের তাদের উদ্দেশ্য সাধনে সহায়তা করা হবে না।

যুদ্ধ-পরবর্তী ইরানের পুনর্গঠন সংক্রান্ত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেপরোয়া মন্তব্যেরও সমালোচনা করে হাতামি বলেন, ‘এই মন্তব্যগুলো ইরানের নাম ও অস্তিত্ব মুছে ফেলার মার্কিন-ইসরায়েলি শত্রুদের আসল উদ্দেশ্যকেই প্রমাণ করে।’

তিনি আরও বলেন, জনগণের দৃঢ় সংকল্প এবং এই বৈরী পরিকল্পনা সম্পর্কে সচেতনতার পরিপ্রেক্ষিতে, চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত “ইরানের জন্য সবকিছু” এই মূলনীতির অধীনে সকল প্রচেষ্টা অবশ্যই অব্যাহত রাখতে হবে এবং সেনাবাহিনী পূর্ণ শক্তিতে আগ্রাসনকারীদের মোকাবিলা করতে প্রস্তুত থাকবে।

অন্যদিকে গতকাল এক বিবৃতিতে ইরানের সামরিক বাহিনীর খাতাম-আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্সের কমান্ডার মেজর জেনারেল আলি আব্দুল্লাহ বলেছেন, মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় ইসলামি প্রতিরোধ ফ্রন্ট দুর্বল হয়নি; বরং আরও শক্তিশালী হয়ে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলছে। 

যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে প্রতিরোধ জোটের পতনের যে দাবি করা হয়েছে, তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে আব্দুল্লাহ আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল মনে করেছিল প্রতিরোধ ফ্রন্ট ভেঙে পড়ছে বা দুর্বল হয়ে পড়ছে। তবে বাস্তবে তারা এই জোটের অপ্রত্যাশিত শক্তির মুখোমুখি হয়েছে।

তিনি উল্লেখ করেন, লেবাননের হিজবুল্লাহ, ইয়েমেনের আনসারুল্লাহ এবং ইরাকের বিভিন্ন প্রতিরোধ গোষ্ঠী— ইরানি বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ে— সাহস, ঈমান ও দৃঢ়তার পরিচয় দিয়েছে। তার দাবি, এসব শক্তি প্রমাণ করেছে যে মার্কিন নেতৃত্ব ও ইসরায়েলি শাসনব্যবস্থা তাদের মোকাবিলা করতে অক্ষম এবং শেষ পর্যন্ত এই শক্তিশালী ফ্রন্টের সামনে নতি স্বীকার করা ছাড়া তাদের আর কোনো পথ নেই।

সূত্র: তাসনিম নিউজ

এমএইচআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর