শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬, ঢাকা

সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে নেপালে বিক্ষোভ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৮ মার্চ ২০২৬, ০৯:০২ পিএম

শেয়ার করুন:

সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে নেপালে ব্যাপক বিক্ষোভ

নেপালে গত বছর সংঘটিত বিক্ষোভ দমনে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখককে গ্রেফতার করা হয়েছে। নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বলেন্দ্র শাহের শপথ নেওয়ার পরদিনই তাদের গ্রেফতারের প্রতিবাদে দেশটির বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ করছেন ওলির দল নেপালি কমিউনিস্ট পার্টির (ইউনিফাইড মার্কসবাদী-লেনিনবাদী) সমর্থকরা।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, ওলির গ্রেফতারের প্রতিবাদে সিপিএন-ইউএমএল-এর শত শত নেতাকর্মী রাজধানী কাঠমান্ডুর মাইতিঘর মণ্ডল ও কোশী প্রদেশের ঝাপা জেলার দামাক পৌরসভায় সমবেত হন। তাদের সঙ্গে যোগ দেয় অল নেপাল ন্যাশনাল ফ্রি স্টুডেন্টস ইউনিয়নের ছাত্রকর্মীরা। এসময় তারা নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী বালন্দ্র শাহ ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুদান গুরুংয়ের বিরুদ্ধে স্লোগান দেয় এবং ওলির অবিলম্বে মুক্তি দাবি করে।


বিজ্ঞাপন


এছাড়াও ইউএমএল কর্মীদের একটি দল চ্যাসালে ইউএমএল-এর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের কাছে অন্তর্বতী সরকারের তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদন পুড়িয়ে এবং টায়ারে আগুন ধরিয়ে তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করে। তবে বিক্ষোভস্থলগুলোতে পুলিশের উপস্থিতি ছিল নগণ্য।

image

এরআগে শনিবার ভোরে রাজধানী কাঠমান্ডুর উপকণ্ঠে নিজ নিজ বাসভবন থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখককে গ্রেফতার করা হয়। তবে গ্রেফতারের পরপরই নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার অংশ হিসেবে ৭৪ বছর বয়সী ওলিকে কাঠমান্ডুর একটি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে।


বিজ্ঞাপন


গত বছরের সেপ্টেম্বরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নিষিদ্ধ করার প্রতিবাদে নেপালজুড়ে ব্যাপক গণবিক্ষোভ শুরু হয়। মূলত দুর্নীতি এবং অর্থনৈতিক সংকটের ক্ষোভ থেকেই এই আন্দোলন তীব্র আকার ধারণ করেছিল। সেই সময় পুলিশের গুলিতে অন্তত ৭০ জন নিহত হন, যাদের বেশিরভাগই ছিলেন সাধারণ আন্দোলনকারী।

বিক্ষোভ দমনে সরকারি ভূমিকা তদন্তে গঠিত একটি প্যানেল সাবেক প্রধানমন্ত্রী ওলি এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখকের বিরুদ্ধে 'ফৌজদারি অবহেলার' অভিযোগে বিচারের সুপারিশ করে। সেই সুপারিশের ভিত্তিতেই শনিবার ওলির পাশাপাশি রমেশ লেখককেও গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে নেপালের পুলিশ।

কাঠমান্ডু পুলিশের মুখপাত্র ওম অধিকারী জানিয়েছেন, আইন অনুযায়ী গ্রেফতারি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে ওলির বয়স এবং তার দু’বার কিডনি প্রতিস্থাপনের ইতিহাস বিবেচনায় তাকে হাসপাতালে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

নেপালের বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুদান গুরুং সামাজিক মাধ্যমে বলেন, ‘কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নন। আমরা ওই ঘটনার সুবিচার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। সেই কাজ শুরু হয়েছে। এটা কোনও প্রতিশোধ নয়।’

সূত্র: বিবিসি, হিমালয়ান টাইমস


এমএইচআর

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর