সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে ইউক্রেনের একটি ড্রোন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মজুত থাকা একটি ডিপোতে হামলা চালিয়েছে ইরান। সেই হামলায় ২১ ইউক্রেনীয় ড্রোন বিশেষজ্ঞ নিহত হয়েছেন বলে ধারণা করছে ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।
ইরানের আধা সরকারি সংবাদ মাধ্যম তাসনিম নিউজে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসির কেন্দ্রীয় কমান্ড- খাতাম আল-আনবিয়া সদর দপ্তরের মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাগারি বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে অবস্থানরত মার্কিন কমান্ডার ও সৈন্যদের গোপন আস্তানাগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালায় আইআরজিসির অ্যারোস্পেস ও নৌবাহিনীর। পাশাপাশি মার্কিন বাহিনীকে সহায়তা করার জন্য দুবাইয়ে রাখা ইউক্রেনের একটি ড্রোন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ডিপোও টার্গেট করা হয়। হামলায় ডিপোটি ধ্বংস হয়ে গেছে।
বিজ্ঞাপন
মুখপাত্র আরও জানিয়েছেন, হামলার সময় ওই ড্রোন ডিপোতে হামলার সময় ২১ ইউক্রেনীয় ড্রোন বিশেষজ্ঞ উপস্থিত ছিলেন। হামলায় পর তাদের অবস্থা সম্পর্কে এখন পর্যন্ত স্পষ্ট কিছু জানা যায়নি। সম্ভবত তারা সবাই নিহত হয়েছেন।
এদিকে ইউক্রেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইরানের এই দাবি অস্বীকার করেছে।
মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হেওরহি তিখি সাংবাদিকদের বলেন, ‘এটি একটি মিথ্যা। আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে এই তথ্য খণ্ডন করছি। ইরানি শাসকগোষ্ঠী প্রায়শই এ ধরনের অপতথ্য প্রচারণা চালিয়ে থাকে।’
প্রসঙ্গত, আর্থিক অনুদান এবং উন্নত প্রযুক্তির বিনিময়ে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মোকাবিলায় কারিগরি ও বিশেষজ্ঞ সহায়তা প্রদান করছে ইউক্রেন। কারণ ইউক্রেন দীর্ঘদিন ধরে রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইরানি শাহেদ ড্রোন মোকাবিলার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে।
বিজ্ঞাপন
ইরানের ড্রোন মোকাবিলায় উপসাগরীয় দেশগুলো বর্তমানে অত্যন্ত ব্যয়বহুল প্যাট্রিয়ট মিসাইল ব্যবহার করছে। ইউক্রেন তাদের শেখাতে চায় কীভাবে অনেক কম খরচে এবং কার্যকরভাবে ড্রোন ভূপাতিত করা সম্ভব। এক্ষেত্রে তাদের সল্পমূল্যের ইন্টারসেপ্টর ও জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করবে কিয়েভ। দেশটি ইতোমধ্যেই সৌদি আরব, কাতার, এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশে তাদের ড্রোন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ দল পাঠিয়েছে।
সূত্র: তাসনিম নিউজ
এমএইচআর

