শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬, ঢাকা

জ্বালানি সংকট: পেট্রোল-ডিজেলে শুল্ক কমাল ভারত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৮ মার্চ ২০২৬, ০৩:৩৪ পিএম

শেয়ার করুন:

জ্বালানি সংকট: পেট্রোল-ডিজেলে শুল্ক কমাল ভারত

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রভাবে ভারতের জ্বালানি তেলের সংকটের মধ্যেই দেশটির সরকার পেট্রোল ও ডিজেলের ওপরে ধার্য শুল্ক কমিয়ে দিয়েছে। তবে সাধারণ ক্রেতাদের এখনও আগের দামেই তেল কিনতে হবে।

শুক্রবার ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার ঘোষণা করেছে, লিটার প্রতি ১০ রুপি করে শুল্ক কমানো হচ্ছে। এতদিন পেট্রলের ওপরে ১৩ রুপি করে ও ডিজেলের ওপরে ১০ রুপি করে শুল্ক নিত সরকার। নতুন ঘোষণার ফলে পেট্রোলের ক্ষেত্রে তা তিন রুপি ও ডিজেলের ক্ষেত্রে শূন্যে নেমে এল। এই সিদ্ধান্ত ১৫ দিন পরে পুনর্বিবেচিত হতে পারে বলেও সরকারের তরফে জানানো হয়েছে।


বিজ্ঞাপন


বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে বিশ্ব বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে। সেই প্রেক্ষিতে ভারতের তেল সংস্থাগুলিকে যাতে ক্রেতার ওপরে বাড়তি দাম চাপিয়ে না দিতে হয়, আবার তেলের দাম না বাড়ালে যাতে সংস্থাগুলিরও ক্ষতি না হয়, সেজন্যই সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

নরেন্দ্র মোদির সরকার আরও জানিয়েছে, জ্বালানি সংকটের ফলে লকডাউন ঘোষণা করা হতে পারে কী না, তা জানতে বহু মানুষ যে গুগল সার্চ করছেন, তার কোনো ভিত্তিই নেই। কেন্দ্রীয় পেট্রলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী তার এক্স হ্যান্ডেলে এক পোস্টে জানিয়েছেন, লকডাউনের আশঙ্কা পুরোটাই গুজব।

যদিও সরকার আশ্বস্ত করছে যে, দেশে যথেষ্ট পরিমাণে জ্বালানি তেল মজুত আছে, তবুও সাধারণ মানুষের মধ্যে যে ‘প্যানিক বাইয়িং’-এর প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, সেটাও স্বীকার করছে পেট্রোলিয়াম মন্ত্রণালয়।

ভারতের বিভিন্ন বড়-ছোট শহরের একাধিক পেট্রোল পাম্পে লম্বা লাইন দেখা যাচ্ছে গাড়ির।


বিজ্ঞাপন


মূল্যবৃদ্ধি সামাল দিতে কমল আবগারি শুল্ক

মধ্য প্রাচ্যে আমেরিকা ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের ফলে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। বিশ্বের একটি বড় অংশে তেল সরবরাহ হয় এই প্রণালী দিয়ে। এর ফলে বিশ্ব বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বিপুল পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে।

ভারতের তেল সংস্থাগুলিকে ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে। এই সংস্থাগুলোর মধ্যে রয়েছে দেশটির চারটি রাষ্ট্রায়ত্ব তেল কোম্পানিও। তেলের দাম না বাড়ালে তাদের ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। এই অবস্থায় যাতে দেশে তেলের খুচরো দাম, অর্থাৎ সাধারণ ক্রেতারা যে দামে তেল কেনেন, তা না বাড়ে, সেই দিকটা মাথায় রেখেই আবগারি শুল্ক কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।

পেট্রল ও ডিজেলে এক্সাইজ ডিউটি কমানো ওয়েল মার্কেটিং কোম্পানীগুলিকে স্বস্তি দেবে বলেই মত প্রকাশ করেছেন বাজার বিশেষজ্ঞরা। তবে অ্যাভিয়েশন টারবাইন ফুয়েল বা বিমানের জ্বালানিতে নতুন করে শুল্ক চাপানো হয়েছে। প্রতি লিটার বিমান জ্বালানিতে এবার থেকে ৫০ রুপি হারে এক্সাইজ ডিউটি দিতে হবে। তাই ভারতে বিমানভাড়া বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

কোম্পানিগুলোর ক্ষতি ভাগ করে নিতে চাইছে সরকার

ভারতের পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী জানিয়েছেন, অয়েল মার্কেটিং কোম্পানি বা ওএমসিগুলো বিক্রিত পেট্রোলের প্রতি লিটারে ২৪ রুপি ও ডিজেলের প্রতি লিটারে ৩০ রুপি হারে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছিল।

আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের ক্রমবর্ধমান দামকেই এর কারণ হিসেবে দায়ী করেছেন তিনি।

তথ্য দেখাচ্ছে, ফেব্রুয়ারি মাসের ২৭ তারিখ অপরিশোধিত তেলের ব্যারেলপ্রতি দামের চেয়ে বর্তমান দাম ৫০ শতাংশের কিছুটা বেশি। এই শুল্ক হ্রাস করে ওএমসিগুলির ক্ষতির বোঝা সরকারও কিছুটা বহন করে বাজারে তেলের দাম স্থিতিশীল রাখার পরিকল্পনা করছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এর মাধ্যমে ওএমসিগুলোর ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ বার্ষিক ক্ষতির ভার লাঘব করা সম্ভব হবে।

রেটিং সংস্থা আইআরসিএ-এর মতে, এক্সাইজ ডিউটিতে প্রতি ১ রুপি হ্রাসের ফলে ১৬ হাজার কোটি রুপি বার্ষিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারে সরকার। তবে এই মুহূর্তে দেশের বাজারে তেলের দাম স্থিতিশীল রাখাই সরকারের কাছে সবথেকে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।

গত বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে ভারদতের পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব সুজাতা শর্মা বলেন, ‘আমাদের কাছে বাৎসরিক ২৬ কোটি টন অপরিশোধিত তেল শোধন করার ক্ষমতা রয়েছে। এই কারণেই এই বার্তা আমি দিতে চাই, কারণ দেশে প্যানিক বাইং-এর পরিস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আমাদের কাছে যথেষ্ট পরিমাণে জ্বালানি মজুত রয়েছে। একমাত্র গুজবের কারণেই পেট্রোল পাম্পে লম্বা লাইন দেখা যাচ্ছে।’ 

দেশে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা যখন মানুষের মধ্যে ঘনীভূত হচ্ছে, তখনই এই বার্তা দিয়ে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেন তিনি।

সূত্র: বিবিসি

এমএইচআর

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর