শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬, ঢাকা

পাকিস্তানি হানাদারদের বিচার চেয়ে বাংলাদেশের পাশে ভারত

কূটনৈতিক প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৮ মার্চ ২০২৬, ০২:১৭ পিএম

শেয়ার করুন:

পাকিস্তানি হানাদারদের বিচার চেয়ে বাংলাদেশের পাশে ভারত

ভারত জানিয়েছে, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নৃশংসতার বিচারের দাবিতে বাংলাদেশের প্রচেষ্টাকে তারা সমর্থন করে। 

নয়াদিল্লিতে শুক্রবার (২৭ মার্চ) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানিয়েছেন মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীল জয়সওয়াল। খবর এনডিটিভির। 


বিজ্ঞাপন


ব্রিফিংয়ে রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ১৯৭১ সালে অপারেশন সার্চলাইটের নামে বাংলাদেশে পাকিস্তানি বাহিনী কী ভয়াবহ নৃশংসতা করেছে— সে সম্পর্কে আমরা সবাই অবগত। 

সেই গণহত্যায় লাখ লাখ নিরীহ বাংলাদেশিকে পরিকল্পিত ও পদ্ধতিগতভাবে হত্যা করা হয়েছিল, নারীদের ওপর গণহারে যৌন নির্যাতন চালানো হয়েছিল। 

পাক বাহিনীর ভয়াবহ নিষ্ঠুরতা থেকে বাঁচতে লাখ লাখ মানুষ তাদের বাড়িঘর ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছিলেন এবং ভারতে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছিলেন। 

বলাই বাহুল্য যে অপারেশন সার্চলাইটের নৃশংসতা পুরো বিশ্ব বিবেককে নাড়া দিয়েছিল কিন্তু পাকিস্তান আজও তার অপরাধ অস্বীকার করছে।


বিজ্ঞাপন


১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাত থেকে বাংলাদেশ বা তৎকালীন পূর্বপাকিস্তানে সামরিক অভিযান ‘অপারেশন সার্চ লাইট’ শুরু করে পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর ইস্টার্ন কমান্ড, যা আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয় ওই বছর ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ-ভারত যৌথ বাহিনীর কাছে পাক বাহিনীর আত্মসমর্পণের মধ্যে দিয়ে। 

এই ৯ মাসে পাক সেনা এবং তাদের এদেশীয় দোসর রাজাকার-আলবদর বাহিনীর হাতে বাংলাদেশে নিহত হয়েছেন ৩০ লাখ মানুষ এবং সম্ভ্রম হারিয়েছেন ২ লাখ নারী।

বাংলাদেশ গত বেশ কয়েক বছর ধরে ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি বাহিনীর নৃশংস সামরিক অভিযানকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে স্বীকৃতি আদায়ের জন্য চেষ্টা করছে। 

যুক্তরাষ্ট্রের পার্লামেন্ট কংগ্রেসেও অপারেশন সার্চলাইটকে ‘গণহত্যা’ স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য প্রস্তাব উঠেছে। গত ২৪ মার্চ ঈদ পরবর্তী প্রথম কর্মদিবসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মত বিনিময়কালে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ জানিয়েছেন, একাত্তরের গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির প্রক্রিয়াটি বর্তমানে চলমান রয়েছে এবং সরকার একে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে।

তার পরের দিন গত ২৫ মার্চ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ২৫ মার্চকে আমরা গণহত্যা দিবস হিসেবে পালন করি। 

গণহত্যা দিবস উপলক্ষে আমি সব শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই। স্বাধীনতাকামী বাংলাদেশের ইতিহাসে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ সবচেয়ে লজ্জাজনক ও নৃশংস দিনগুলোর একটি হয়ে থাকবে।

-এমএমএস

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর