হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার চেষ্টাকালে তিনটি জাহাজকে ফিরিয়ে দেওয়ার কথা জানিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ‘সেপাহ নিউচে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি এ তথ্য জানায়।
বিজ্ঞাপন
আইআরজিসির এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘দুর্নীতিগ্রস্ত মার্কিন প্রেসিডেন্টের হরমুজ প্রণালী খোলা থাকার মিথ্যা দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আজ সকালে বিভিন্ন দেশের তিনটি কন্টেইনার জাহাজ ফিরিয়ে দেওয়া হয়। জাহাজগুলো অনুমোদিত জাহাজের জন্য নির্ধারিত করিডোরের দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করেছিল, তবে আইআরজিসি’র নৌবাহিনীর সতর্কবার্তার পর তারা ফিরে যেতে বাধ্য হয়।’ তবে জাহাজগুলো কোন দেশের তা উল্লেখ করেনি আইআরজিসি।
‘হরমুজ প্রণালি বন্ধ রয়েছে’ উল্লেখ করে বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মিত্র ও সমর্থকদের বন্দরগুলো থেকে যেকোনো করিডোর দিয়ে যেকোনো গন্তব্যে যেকোনো জাহাজের যাতায়াত নিষিদ্ধ।’
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি দুইদিন আগে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলেন, ইরান এখন পর্যন্ত চীন, রাশিয়া, পাকিস্তান, ইরাক, ভারত ও বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর জাহাজ চলাচলের অনুরোধ গ্রহণ করেছে। ইরানের অবস্থান হচ্ছে, প্রণালিটি "সম্পূর্ণরূপে বন্ধ নয়, বরং শত্রুদের জন্য বন্ধ’।
বিজ্ঞাপন
এদিকে জ্বালানি বাজার বিষয়ক গোয়েন্দা সংস্থা কেপলার জানিয়েছে, তারা চীনা সংস্থা কসকো-র দুটি কন্টেইনার জাহাজ শনাক্ত করেছে, যেগুলো ইরানের উপকূলের সংকীর্ণ জলপথটি অতিক্রম করার চেষ্টা করে ফিরে গিয়েছিল।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধের জেরে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল পরিবহনের সমুদ্র পথ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। এতে জ্বালানির আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্য সরবরাহে ব্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছে এবং জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রণালী খুলে না দিলে তিনি ইরানের বিদ্যুৎ গ্রিডে হামলা চালাবেন। পরে ‘ফলপ্রসূ আলোচনা’র কথা বলে তিনি প্রথমে ৫ দিনের জন্য সময় বাড়ান। পরে গতকাল বৃস্পতিবার সেটি দ্বিতীয়বারের মতো বাড়িয়ে ১০ দিন অর্থাৎ আগামী ৬ এপ্রিল নির্ধারণ করেছেন তিনি।
ইরান সরকারের অনুরোধে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে দাবি করে ট্রাম্প বলেন, ‘আলোচনা খুব ভালোভাবে এগোচ্ছে,’ যদিও এ ধরনের আলোচনার কথা অস্বীকার করেছে ইরান।
সূত্র: আলজাজিরা, বিবিসি
এমএইচআর

