মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের অবসানে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। একই সঙ্গে যুদ্ধ কখন এবং কীভাবে শেষ হবে তা কেবল ইরান নির্ধারণ করবে বলে জানিয়েছে তেহরান। এনিয়ে ৫টি শর্তও দিয়েছে দেশটি।
বুধবার ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন প্রেস টিভিকে দেওয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে এসব তথ্য জানিয়েছেন দেশটির জ্যেষ্ঠ এক রাজনৈতিক-নিরাপত্তা কর্মকর্তা।
বিজ্ঞাপন
যুক্তরাষ্ট্রে প্রস্তাবটির বিস্তারিত সম্পর্কে অবগত ওই কর্মকর্তা বলেছেন, ‘মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে যুদ্ধের সমাপ্তি নির্ধারণ করার সুযোগ দেবে না ইরান’।
তিনি বলেন, ইরান যখন মনে করবে এবং তার নিজস্ব শর্তগুলো যখন পূরণ হবে, তখনই এই যুদ্ধ শেষ হবে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত শত্রুর ওপর ‘চরম আঘাত’ হেনে প্রতিরক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার তেহরানের দৃঢ় সংকল্পের ওপর জোর দেন।
কর্মকর্তা আরও বলেন, ওয়াশিংটন বিভিন্ন কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে আলোচনার চেষ্টা করছে এবং এমন কিছু প্রস্তাব পেশ করেছে, যেগুলো তেহরানের দৃষ্টিতে ‘অযৌক্তিক’ এবং যুদ্ধক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের পরাজয়ের বাস্তবতাকে আড়াল করার চেষ্টা মাত্র।
২০২৫ সালের বসন্ত ও শীতকালে অনুষ্ঠিত দুই দফার আলোচনা গুলোকে মার্কিন ‘প্রতারণা’ বলে আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, সে সময়ও যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনার কোনও সদিচ্ছা ছিল না এবং পরবর্তীতে ইরানের ওপর সামরিক আগ্রাসন চালিয়েছিল তারা। তাই একটি বন্ধুপ্রতীম আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারী দেশের মাধ্যমে আসা যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রস্তাবকে উত্তেজনা বৃদ্ধির একটি চক্রান্ত হিসেবে আখ্যায়িত করেছে এবং এর নেতিবাচক জবাব দিয়েছে ইরান।
ওই কর্মকর্তা পাঁচটি নির্দিষ্ট শর্তের রূপরেখা দিয়েছেন, যেগুলোর অধীনে ইরান যুদ্ধ শেষ করতে রাজি হবে। এগুলো হলো—
১. শত্রুপক্ষকে ‘আগ্রাসন ও গুপ্তহত্যা’ পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে।
২. ইসলমি প্রজাতন্ত্র ইরানের ওপর যাতে পুনরায় যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া না হয়, তা নিশ্চিত করার জন্য সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
৩. যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির জন্য সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারিত ক্ষতিপূরণ প্রদানের নিশ্চয়তা দিতে হবে।
৪. অঞ্চলের সব ফ্রন্টে এবং লড়াইয়ে যুক্ত থাকা সব প্রতিরোধ যোদ্ধাদের সঙ্গে যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটাতে হবে।
৫. হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের সার্বভৌমত্বের চর্চাকে স্বাভাবিক ও আইনি অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে; যা অন্য পক্ষের প্রতিশ্রুতি পালনের নিশ্চয়তা হিসেবে কাজ করবে।
ইরানের ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নতুন করে হামলা শুরুর কয়েক দিন আগে জেনেভায় অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় দফার আলোচনায় দেওয়া তেহরানের সব দাবির সঙ্গে এসব শর্ত যুক্ত হবে। সব শর্ত মেনে নেওয়া হলেই কেবল যুদ্ধবিরতি সম্ভব বলে ইরান সব মধ্যস্থতাকারীকে জানিয়ে দিয়েছে। এর আগে কোনও আলোচনা হবে না।
উল্লিখিত শর্তগুলো পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ইরানের প্রতিরক্ষা অভিযান অব্যাহত থাকবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যুদ্ধের অবসান তখনই ঘটবে যখন ইরান তা শেষ করার সিদ্ধান্ত নেবে, ট্রাম্প এর সমাপ্তি যেভাবে কল্পনা করেন সেভাবে নয়।’
সূত্র: প্রেস টিভি
এমএইচআর

