মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ, ২০২৬, ঢাকা

কলম্বিয়ায় সামরিক বিমান বিধ্বস্তে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৪ মার্চ ২০২৬, ০৮:২৮ এএম

শেয়ার করুন:

কলম্বিয়ায় সামরিক বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় নিহত ৩৪
উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পরেই দেশটির সামরিক বাহিনীর একটি কার্গো পরিবহন বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

কলম্বিয়ার দক্ষিণপশ্চিমাঞ্চলে সোমবার (২৩ মার্চ) সামরিক বাহিনীর একটি কার্গো বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৬ জনে পৌঁছেছে। রয়টার্সকে দুই সামরিক সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। ধ্বংসস্তূপ থেকে এখনও মরদেহ উদ্ধার করা হচ্ছে। এটি সাম্প্রতিক সময়ে কলম্বিয়ার বিমান বাহিনীর সবচেয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনাগুলোর একটি।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) জানিয়েছেন, লকহিড মার্টিন নির্মিত হারকিউলিস সি-১৩০ পরিবহন বিমানটি পেরুর সীমান্তবর্তী পুয়ের্তো লেগুইসামো এলাকা থেকে উড্ডয়নের সময় দুর্ঘটনার শিকার হয়।


বিজ্ঞাপন


দমকলকর্মী এদুয়ার্দো সান হুয়ান কায়েহাস জানিয়েছেন, উড্ডয়নের সময় রানওয়ের শেষ প্রান্তে বিমানটি কোনো কিছুর সঙ্গে আঘাতপ্রাপ্ত হয়। পরে নিচে পড়ে যাওয়ার সময় ডানার এক অংশ একটি গাছের সঙ্গে ধাক্কা খায়। দুর্ঘটনার পর বিমানটিতে আগুন ধরে যায় এবং এতে থাকা কোনো বিস্ফোরক জাতীয় বস্তু বিস্ফোরিত হয়।

দূরবর্তী এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারাই প্রথমে উদ্ধারকাজে অংশ নেন। ভিডিওচিত্রে দেখা যায়, মোটরসাইকেলের পেছনে আহত সেনাদের দ্রুত নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। পরে সামরিক যানবাহন ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও দুর্গম এলাকায় হওয়ায় উদ্ধারকাজ ব্যাহত হয়।

Colombia_dhakamail


বিজ্ঞাপন


কলম্বিয়ার বিমান বাহিনী প্রথমে জানায়, বিমানে মোট ১২১ জন ছিলেন-যার মধ্যে ১১০ জন সেনা এবং ১১ জন ক্রু সদস্য। তবে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যের সঙ্গে এই সংখ্যার পার্থক্যের কারণ তাৎক্ষণিকভাবে পরিষ্কার হয়নি।

প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো তার মেয়াদের শেষ সময়ে সামরিক বাহিনীর আধুনিকায়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আমলাতান্ত্রিক জটিলতার সমালোচনা করেছেন। এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘আর কোনো বিলম্ব মেনে নেওয়া হবে না; আমাদের তরুণদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। বেসামরিক বা সামরিক প্রশাসনের কেউ যদি এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্ষম না হন, তবে তাদের সরিয়ে দিতে হবে।’

আসন্ন ৩১ মে কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের কয়েকজন প্রার্থী শোক প্রকাশ করেছেন এবং ঘটনার তদন্ত দাবি করেছেন।

লকহিড মার্টিনের এক মুখপাত্র জানান, তদন্তে সহায়তার জন্য প্রতিষ্ঠানটি কলম্বিয়ার পাশে থাকতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

হারকিউলিস সি-১৩০ বিমান প্রথম ১৯৫০-এর দশকে চালু হয়। কলম্বিয়া ১৯৬০-এর দশকের শেষদিকে প্রথম এই মডেল সংগ্রহ করে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র থেকে পাওয়া নতুন মডেলের মাধ্যমে পুরোনো কিছু সি-১৩০ আধুনিকায়ন করা হয়েছে।

দেশটির ছয় দশক ধরে চলা অভ্যন্তরীণ সংঘাতের প্রেক্ষাপটে সেনা পরিবহনে এই বিমানগুলো নিয়মিত ব্যবহার করা হয়, যেখানে এখন পর্যন্ত চার লাখ পঞ্চাশ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

সোমবার বিধ্বস্ত বিমানটির টেইল নম্বর সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরবরাহ করা তিনটি বিমানের প্রথমটির সঙ্গে মিলে যায়।

এর আগে ফেব্রুয়ারির শেষদিকে বলিভিয়ার বিমান বাহিনীর আরেকটি হারকিউলিস সি-১৩০ এল আল্টো শহরে বিধ্বস্ত হয়। এতে ২০ জনের বেশি নিহত এবং ৩০ জন আহত হন। দুর্ঘটনার পর বিমানের কার্গো থেকে ছড়িয়ে পড়া ব্যাংকনোট ঘিরে স্থানীয়দের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে।

সূত্র: রয়টার্স

এমআই

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর