ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নিজেদের নিরপেক্ষতার কারণ দেখিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে অস্ত্র রফতানি স্থগিত করেছে মধ্য ইউরোপের দেশ সুইজারল্যান্ড।
শুক্রবার এক বিবৃতিতে সুইস সরকার বলেছে, ‘ইরানের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সশস্ত্র সংঘাতে জড়িত দেশগুলোতে এই সংঘাত চলাকালীন যুদ্ধ সরঞ্জাম রফতানির অনুমোদন দেওয়া যাবে না।”
বিজ্ঞাপন
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ‘২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর ইসরায়েলি ও মার্কিন হামলার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে যুদ্ধ সরঞ্জাম রফতানির জন্য কোনো নতুন লাইসেন্স জারি করা হয়নি।’
সরকার জানিয়েছে, একটি বিশেষজ্ঞ দল যুক্তরাষ্ট্রে সংশ্লিষ্ট পণ্য রফতানির পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যালোচনা করবে এবং নিরপেক্ষতা আইন অনুযায়ী কোনো পদক্ষেপ প্রয়োজন কিনা তা খতিয়ে দেখবে।
এরআগে গত সপ্তাহে সুইস সরকার জানিয়েছিল, তারা ইরান-সম্পর্কিত যুদ্ধবিমানের দুটি মার্কিন বিমান উড্ডয়নের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করলেও অন্য তিনটির অনুমতি দিয়েছে। এক্ষেত্রেও সুইজারল্যান্ডের নিরপেক্ষতা আইনের কথা উল্লেখ করেছে।
২০০৩ সালে মার্কিন নেতৃত্বাধীন ইরাক আক্রমণের পর, সুইজারল্যান্ড তার আকাশসীমার ওপর দিয়ে বিমান চলাচল এবং যুদ্ধে জড়িত দেশগুলোতে অস্ত্র রফতানি ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। পরে দেশটি সেই নিষেধাজ্ঞা কিছুটা শিথিল করে।
প্রসঙ্গত, সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী- ২০২৫ সালে সুইজারল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৯৪.২ মিলিয়ন সুইস ফ্রাঁ (প্রায় ১২২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) মূল্যের সামরিক সরঞ্জাম রফতানি করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি, ২০২৪ সালে এই পরিমাণ ছিল প্রায় ৭৬.১ মিলিয়ন ফ্রাঁ। যুক্তরাষ্ট্র মূলত সুইজারল্যান্ড থেকে যুদ্ধবিমানের যন্ত্রাংশ আমদানি করে থাকে।
সূত্র: রয়টার্স
এমএইচআর

