ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা প্রধান আলি লারিজানি হত্যার চূড়ান্ত জবাব দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন দেশটির সেনাবাহিনী প্রধান আমির হাতামি।
আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর লারিজানিই ছিলেন দেশটির সবচেয়ে সিনিয়র নেতা।
বিজ্ঞাপন
এর আগে, ইরান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে, গত মঙ্গলবার ইসরায়েলি বিমান হামলায় দেশটির শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলী লারিজানি এবং বাসিজ ফোর্সের প্রধান গোলামরেজা সোলাইমানি নিহত হয়েছেন। সরকারের এই ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনাকে এক নতুন এবং ভয়াবহ মাত্রায় নিয়ে গেল।
ইরানি গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, রাজধানী তেহরানের একটি উচ্চ-নিরাপত্তা সম্পন্ন ভবনে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক চলাকালীন এই হামলা চালানো হয়। হামলায় আলী লারিজানি, যিনি ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন এবং বাসিজ ফোর্সের কমান্ডার গোলামরেজা সোলাইমানি ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান।
আরও পড়ুন:
এদিকে ইসরায়েলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তেল আবিবে দুজন নিহত হয়েছে। ইরাকের রাজধানী বাগদাদে মার্কিন দূতাবাসে একাধিক ড্রোন ও রকেট হামলা চালানো হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
এই যুদ্ধ ঘিরে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও কিছু ঘটনা ঘটেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নেটোসহ অন্য মিত্রদের সমালোচনা করে জানিয়েছেন যে এসব দেশ ইরান যুদ্ধে জড়িত হতে চায় না।
এর আগে হরমুজ প্রণালি রক্ষায় এগিয়ে আসতে সহযোগীদের প্রতি ট্রাম্প যে আহ্বান জানিয়েছিলেন তাও ওইসব দেশ নাকচ করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল কাউন্টার টেররিজম সেন্টার (এনসিটিসি)-এর পরিচালক জো কেন্ট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাঁর পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে বলেছেন ‘বিবেকের তাড়নায়’ তিনি ইরানের সাথে চলমান এই যুদ্ধকে সমর্থন করতে পারছেন না।
সংযুক্ত আরব আমিরাতে অস্ট্রেলিয়ার সামরিক ঘাঁটিতেও হামলার খবর নিশ্চিত করেছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ বলেছেন স্থানীয় সময় সকাল সোয়া নয়টায় আল মিনহাদ ঘাঁটিতে একটি প্রজেক্টাইল বা ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত করে।
তিনি বলেন, আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি যে কোনো অস্ট্রেলিয়ান নাগরিক আহত হননি এবং সবাই নিরাপদ আছেন।
ওই প্রক্ষেপণাস্ত্রটি ঘাঁটির দিকে যাওয়ার একটি সড়কে আঘাত হানার ফলে স্বল্প আকারে আগুন লাগে। তবে এ কারণে একটি আবাসিক ভবন ও একটি চিকিৎসা স্থাপনায় সামান্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
/এএস

