চলমান ইরান যুদ্ধ আগামী জুন মাস পর্যন্ত অব্যাহত থাকলে বিশ্বজুড়ে অতিরিক্ত প্রায় ৪ কোটি ৫০ লাখ মানুষ তীব্র ক্ষুধার শিকার হতে পারে।
মঙ্গলবার বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) এক বিশেষ বিশ্লেষণে এই আশঙ্কার কথা জানিয়েছে। সংস্থাটির মতে, এই যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বব্যাপী অনাহারীর সংখ্যা অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে।
বিজ্ঞাপন
গত ২৬ ফেব্রুয়ারি ইরানে মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলা শুরু হওয়ার পর থেকে মানবিক সহায়তা সরবরাহের প্রধান পথগুলো অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। এর ফলে বিশ্বের সবচেয়ে সংকটপূর্ণ এলাকাগুলোতে জীবনরক্ষাকারী খাদ্য ও ওষুধ পৌঁছাতে মারাত্মক বিলম্ব ঘটছে। লজিস্টিক জটিলতার কারণে ত্রাণবাহী জাহাজগুলো রুদ্ধ হয়ে পড়ায় মানবিক বিপর্যয় আরও ঘনীভূত হচ্ছে।
আরও পড়ুন—
জেনেভায় সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে ডব্লিউএফপি-র উপ-নির্বাহী পরিচালক কার্ল স্কাউ জানান, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে জ্বালানি তেল, খাদ্যদ্রব্য এবং জাহাজ ভাড়া অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি বলেন, ‘জ্বালানি ও পরিবহন খরচ বাড়ার কারণে অতিরিক্ত ৪৫ মিলিয়ন (৪ দশমিক ৫ কোটি) মানুষ তীব্র ক্ষুধার কবলে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। এর ফলে বিশ্বে মোট ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা বর্তমানের রেকর্ড ৩১৯ মিলিয়নকেও ছাড়িয়ে যাবে।’
বিজ্ঞাপন
কার্ল স্কাউ আরও উল্লেখ করেন যে, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ডব্লিউএফপি-র জাহাজ ভাড়া অন্তত ১৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং অনেক ক্ষেত্রে জাহাজগুলোকে দীর্ঘ পথ ঘুরে গন্তব্যে পৌঁছাতে হচ্ছে। একদিকে পরিবহন খরচ বাড়ছে, অন্যদিকে দাতা দেশগুলো মানবিক সহায়তার চেয়ে প্রতিরক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়িয়ে দেওয়ায় ডব্লিউএফপি-র বাজেটে বড় ধরনের কাটছাঁট করতে হয়েছে।
কার্ল স্কাউয়ের মতে, যুদ্ধের আগেই বিশ্ব খাদ্য নিরাপত্তা একটি 'চরম সংকটের' মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল। তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘এই যুদ্ধ যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে ক্ষুধার মাত্রা এমন এক পর্যায়ে পৌঁছাবে যা মানব ইতিহাসের সব রেকর্ড ভেঙে দেবে। এটি বিশ্বের জন্য এক অত্যন্ত ভয়াবহ ভবিষ্যৎ।’ সূত্র: আরব নিউজ
একেবি

