মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ, ২০২৬, ঢাকা

জ্বালানি সংকট: সাপ্তাহিক ছুটি ৩ দিন করল শ্রীলঙ্কা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৭ মার্চ ২০২৬, ০৯:২৯ পিএম

শেয়ার করুন:

জ্বালানি সংকট: সাপ্তাহিক ছুটি ৩ দিন করল শ্রীলঙ্কা

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধে হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে সৃষ্ট বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটে মধ্যে জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে জরুরি পদক্ষেপের অংশ হিসেবে চার দিনের কর্মসপ্তাহ চালু করেছে শ্রীলঙ্কা সরকার। 

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, শ্রীলঙ্কায় প্রতি সপ্তাহে শনি ও রোববার সরকারি ছুটি থাকে। এর সঙ্গে নতুন করে অতিরিক্ত দিন হিসেবে বুধবার ছুটি ঘোষণা করেছে শ্রীলঙ্কা, যার ফলে দেশটিতে সরকারিসহ অনেক খাতের জন্য কর্মসপ্তাহ কার্যকরভাবে চার দিনে নেমে এসেছে। আগামীকাল ১৮ মার্চ থেকে প্রতি সপ্তাহে বুধবার সরকারি ছুটি কার্যকর হবে। 


বিজ্ঞাপন


গতকাল সোমবার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক জরুরি বৈঠকে প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়েকে এই ঘোষণা দিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘আমাদের সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে, কিন্তু সেরাটার আশা করতে হবে।’

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, নতুনভাবে চালু হওয়া চার দিনের কর্মসপ্তাহ স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়সহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতেও কার্যকর হবে। তবে স্বাস্থ্যসেবা, বন্দর এবং জরুরি কার্যক্রমের মতো অত্যাবশ্যকীয় পরিষেবাগুলো যথারীতি চালু থাকবে। এছাড়াও, একটি জাতীয় জ্বালানি পাস ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে, যার অধীনে গাড়িচালকদের নিবন্ধন করতে হবে এবং কেনার জন্য সীমিত পরিমাণে জ্বালানি বরাদ্দ করা হবে।

লঙ্কান কর্মকর্তারা বলছেন, বুধবারকে অতিরিক্ত ছুটি হিসেবে বেছে নেওয়ার কারণ, যাতে সরকারি দফতরগুলো টানা তিন দিন বন্ধ না থাকে। 


বিজ্ঞাপন


দেশটির অত্যাবশ্যকীয় পরিষেবা বিভাগের কমিশনার জেনারেল প্রভাত চন্দ্রকীর্তি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা বেসরকারি খাতকেও একই পথ অনুসরণ করতে এবং এখন থেকে প্রতি বুধবারকে ছুটি ঘোষণা করতে বলছি।’

এদিকে ক্রমবর্ধমান তেলের দাম এবং সরবরাহ বিঘ্নের প্রভাব মোকাবিলায় এই ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণে শ্রীলঙ্কা একা নয়। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যান্য দেশও জ্বালানি সাশ্রয়ে রেশনিং, বাড়ি থেকে কাজ করার নীতি এবং অফিসের সময় কমানোসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

বিদ্যুৎ বাঁচাতে থাইল্যান্ড সরকার এয়ার কন্ডিশনারের ব্যবহার কমানো নির্দেশ দিয়েছে। এক্ষেত্রে নাগরিকদের আনুষ্ঠানিক পোশাকের পরিবর্তে  হালকা পোষাক পরতে উৎসাহিত করছে। মিয়ানমার লাইসেন্স প্লেট নম্বরের ভিত্তিতে একদিন পর পর গাড়ি চালানোর ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে।

অন্যদিকে বাংলাদেশে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে রমজানের ছুটি এগিয়ে আনা হয়েছে এবং পরিকল্পিতভাবে বিদ্যুৎ বন্ধ করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ফিলিপাইন দূরবর্তী কাজের সুযোগসহ নমনীয় কর্মব্যবস্থা চালু করেছে এবং অপ্রয়োজনীয় সরকারি ভ্রমণ নিষিদ্ধ করেছে। ক্রমবর্ধমান জ্বালানি খরচ মোকাবেলায় দেশটি দুর্বল জনগোষ্ঠীকে আর্থিক সহায়তাও প্রদান করছে।

এছাড়াও জ্বালানি সাশ্রয়ে সাইকেল চালানো, গণপরিবহন এবং ব্যক্তিগত যানবাহনের ব্যবহার কমাতে উৎসাহিত করছে ভিয়েতনাম।

সূত্র: এনডিটিভি

এমএইচআর

 

 

 

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর