মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ, ২০২৬, ঢাকা

ইরান নিয়ে ভারতের শ্যাম রাখি না কুল রাখি দশা!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৭ মার্চ ২০২৬, ১১:৫৮ এএম

শেয়ার করুন:

ইরান নিয়ে ভারতের শ্যাম রাখি না কুল রাখি দশা!

পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের জেরে তেলের দাম এবং নিজ দেশের নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রতিনিয়ত রক্তচাপ বাড়ছে ভারতের। 

এক দিকে আমেরিকা-ইসরায়েল আর অন্য দিকে ইরানের মধ্যে চিঁড়েচ্যাপ্টা দেখাচ্ছে ভারতকে। সাউথ ব্লক কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়াতেই সেটা স্পষ্ট হচ্ছে বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল।


বিজ্ঞাপন


ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ব্রিটেনের সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট করতে চেয়েছেন যে, ভারতের পতাকাবাহী দু’টি ট্যাঙ্কার শনিবার নির্বিঘ্নে হরমুজ প্রণালী পার হওয়ার জন্য ইরানের সঙ্গে কোনও ‘দেনা পাওনা’ বা চুক্তিতে যেতে হয়নি। বিনিময়ে কিছুই চায়নি ইরান। 

পশ্চিমকে বার্তা দিয়ে জয়শঙ্করের বক্তব্য, এটা দেনা পাওনার বিষয় নয়। আমাদের একে অপরের সঙ্গে বোঝাপড়ার ইতিহাস রয়েছে। তার ভিত্তিতেই আমি (ইরানের সঙ্গে) কথা বলেছি।

হরমুজ-জট কাটাতে কূটনীতির ওপরেই জোর দিয়েছেন জয়শঙ্কর। তিনি বলেন, আমি ইরানের সঙ্গে কথা বলছি এবং এই প্রক্রিয়া ইরানের সঙ্গে কথাবার্তা চলছে। যদি সেটা ফলপ্রসূ হয়, তা হলে স্বাভাবিক ভাবেই আমি সেটা চালিয়ে যাব।

অন্য দিকে সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়ালকে হরমুজ প্রণালীতে যুদ্ধজাহাজ পাঠানো নিয়ে আমেরিকার অনুরোধ প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হয়। 

তিনি বলেন, এই নিয়ে বিভিন্ন দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে। কিন্তু আমাদের সঙ্গে ওয়াশিংটনের দ্বিপাক্ষিক স্তরে এই নিয়ে কোনও আলোচনা হয়নি। হরমুজ প্রণালীপার হয়ে ভারতের জাহাজ চলাচল নিয়ে তিনি বলেন, ইতিমধ্যেই পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন যে, ইরানের সঙ্গে ভারতের ঐতিহাসিক সংযোগ রয়েছে। বিষয়টি বিনিময়ের নয়। আমরা গত ২৮ ফেব্রুয়ারি, ৩ এবং ৯ মার্চ স্পষ্ট করে বলেছি যে, ভারত উত্তেজনা কমানো, সংযমী নীতি, সংলাপ ও কূটনীতির পক্ষে। পাশাপাশি সব দেশেরই ভৌগোলিক অখণ্ডতা এবং সার্বভৌমত্বকে সম্মান করতে হবে।

গত ১৪ মার্চ রাতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান এবং সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহানের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন জয়শঙ্কর। 

তাদের আলোচনায় ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়। পাশাপাশি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গেও গত কয়েক দিনে চার বার ফোনে কথা হয়েছে জয়শঙ্করের। সেখানে হরমুজ প্রণালীতে আটকে থাকা ভারতের জাহাজের বিষয়টি গুরুত্ব পায়।

কংগ্রেসের প্রধান মুখপাত্র জয়রাম রমেশ অবশ্য এরই মধ্যে দাবি করেছেন যে, ইসরায়েল এবং আমেরিকার পায়ে নুয়ে পড়ে ব্রিকস গোষ্ঠীর গুরুত্ব হানি করছে মোদি সরকার। 

তার কথায়, ২০২৫ সালে ইরানের ওপর আমেরিকার হামলার পর যৌথ বিবৃতি দিয়েছিল ব্রিকস। সেসময় ব্রাজিল ছিল ব্রিকস-এর সভাপতি। কিন্তু ২০২৬-এর সভাপতি ভারত সেই সাহস দেখাতে পারল না।

জয়রামের অভিযোগ, ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং বেনইয়ামিন নেতানিয়াহুকে খুশি করার জন্য নরেন্দ্র মোদি ব্রিকস সভাপতির গুরুত্বকে অবমূল্যায়ন করছেন।

-এমএমএস

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর