সোমবার, ১৬ মার্চ, ২০২৬, ঢাকা

ইরানের ড্রোন হামলায় আমিরাতের ভবনে আগুন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৬ মার্চ ২০২৬, ০৯:৪৮ পিএম

শেয়ার করুন:

ইরানের ড্রোন হামলায় আমিরাতের ভবনে আগুন
ফাইল ছবি

সংযুক্ত আরব আমিরাতের পশ্চিম উপকূলে অবস্থিত উম্মে আল কুওয়াইন অঞ্চলে ইরানের ড্রোন হামলায় একটি বহুতল ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

দেশটির সরকারি বার্তা সংস্থা ডব্লিউএএম এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে। 


বিজ্ঞাপন


উম্ম আল-কুওয়াইন সরকারের গণমাধ্যম অফিসের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘আমিরাতের উম্ম আল-কুওয়াইনে একটি ভবনে ড্রোন হামলা হয়েছে। ড্রোনের আঘাতে সেখানে আগুন ধরে যায়। তবে এতে হতাহতের কোনও ঘটনা ঘটেনি। সংশ্লিষ্ট উদ্ধারকারী দলগুলো এই ঘটনা মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।’ তবে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনটির নাম জানায়নি কর্তৃপক্ষ। 

প্রসঙ্গত, উম্ম আল-কুওয়াইন সংযুক্ত আরব আমিরাতের সবচেয়ে কম জনবহুল শহর।

এরআগে সোমবার দিনভর আমিরাতের বিভিন্ন প্রান্তে হামলা চালিয়েছে ইরান। এর মধ্যে ইরানের হামলায় দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর প্রায় ৪ ঘণ্টার জন্য বন্ধ ছিল। 

এছাড়া দেশটির পূর্ব উপকূলে ফুজাইরাতে একটি বিশাল তেল শিল্প এলাকায় ইরানি ড্রোন হামলার ফলে আগুন লেগে কমপক্ষে একজন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কর্মকর্তারা।


বিজ্ঞাপন


হরমুজ প্রণালীর কাছে ওমান উপসাগরে অবস্থিত ফুজাইরা, যেটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের তেলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি এক্সিট পয়েন্ট বা প্রস্থান কেন্দ্র।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ধারাবাহিকভাবে হামলা চালাচ্ছে ইরান। এর মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত হামলার সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করেছে, যা থামার কোনও লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।

রোববার ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের ১৬তম দিন পেরিয়েছে। এরমধ্যে তেহরান সংযুক্ত আরব আমিরাতের সামরিক ও বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে কুখ্যাত শাহেদসহ ১,৬০০টি ড্রোন, প্রায় ৩০০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১৫টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। যার ফলে একদিকে দেশটিতে ব্যাপক অবকাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে এবং অন্যদিকে বিশ্বের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে তার ভাবমূর্তির ওপরেও আঘাত লেগেছে।

এই যুদ্ধে অর্থনৈতিকভাবেও ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আমিরাত। এরমধ্যে বিশ্বের সবচেয়ে ব্যস্ততম দুবাই বিমানবন্দরে হামলায় বিমান চলাচল ব্যহত হওয়ার কারণে আমিরাতের রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান সংস্থা এমিরেটস এয়ারলাইন্সের দৈনিক ক্ষতি হয়েছে ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার; ভীত বাজারের কারণে বিনিয়োগকারীদের ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ক্ষতি হয়েছে; এবং গুরত্বর্পূণ জেবেল আলী বন্দরে ধীরগতির জাহাজ চলাচলের কারণে দৈনিক ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ক্ষতি হয়েছে।

এছাড়াও ইরানের এসব হামলায় এখন পর্যন্ত পাকিস্তান, নেপাল এবং বাংলাদেশি নাগরিকসহ ছয়জন নিহত হয়েছেন। 

তবে তেহরান সংযুক্ত আরব আমিরাতকে তার ভূখণ্ডকে মার্কিন হামলার জন্য লঞ্চপ্যাড হিসেবে ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার অভিযোগ করে বলেছে, তারা কেবল মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতেই হামলা চালাচ্ছে। যদিও বাস্তবে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো অর্থনৈতিক ও তেল অবকাঠামোতেও আঘাত হানছে।

সূত্র: আলজাজিরা

এমএইচআর

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর