ইরানের সদ্য প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়তুল্লাহ আলী খামেনিসহ দেশটির সরকার ও সামরিক বাহিনীর শীর্ষ নেতাদের হত্যা করা ‘বড় সম্মানের’ বিষয় বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
শুক্রবার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে একটি পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘আমরা সামরিক, অর্থনৈতিকসহ সব দিক দিয়ে ইরানের সন্ত্রাসী শাসনব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেব। ইরানের নৌবাহিনী শেষ। তাদের বিমানবাহিনীও কার্যত ধ্বংস হয়ে গেছে। তাদের ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন, সবকিছু ধ্বংস করা হচ্ছে। এমনকি তাদের নেতাদেরও পৃথিবীর পৃষ্ঠ থেকে মুছে ফেলা হয়েছে।’
বিজ্ঞাপন
নিউ ইয়র্ক টাইমসের একটি প্রতিবেদনের সমালোচনা করে ট্রাম্প বলেন, ‘এত কিছুর পরও আপনি নিউ ইয়র্ক টাইমস পড়বেন, তাহলে আপনি ভুলভাবে ভাববেন যে আমরা এই যুদ্ধে হেরে যাচ্ছি।’

ডোনাল্ড ট্রাম্প আরও বলেন, ‘আমাদের কাছে অতুলনীয় সামরিক শক্তি, সীমাহীন গোলাবারুদ এবং পর্যাপ্ত সময় রয়েছে। আজ এই পাগল বদমাশদের কী হয় তা দেখুন। তারা গত ৪৭ বছর ধরে সারা বিশ্বে নিরীহ মানুষ হত্যা করে আসছে। আর এখন আমি, যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে, তাদের হত্যা করছি। এটি করতে পারা আমার জন্য বড় সম্মানের বিষয়।’
এরআগে বৃহস্পতিবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি হামলার প্রথমদিনই আহত হয়েছিলেন।
বিজ্ঞাপন
তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, সেটাই হয়েছে। আমার ধারণা তিনি আহত, কিন্তু কোনোভাবে তিনি এখনো বেঁচে আছেন।’
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরুর প্রথম দিনেই নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। পরে গত ৮ মার্চ ইরানের ৮৮ সদস্যের অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস (ধর্মীয় নেতাদের সমন্বয়ে গঠিত সংস্থা) ভোটের মাধ্যমে ৫৬ বছর বয়সী মোজতবা খামেনিকে সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত করে। যদিও সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে এখনো জনসম্মুখে আসেনি মোজতবা।
সম্প্রতি সাইপ্রাসে ইরানের রাষ্ট্রদূত আলিরেজা সালারিয়ান ব্রিটিশ পত্রিকা দ্য গার্ডিয়ানকে বলেছেন, তিনি শুনেছেন যে মোজতবা খামেনির হাত, পা ও বাহুতে আঘাত লেগেছে এবং আহত অবস্থায় তিনি হাসপাতালে থাকতে পারেন।
সূত্র: আনাদোলু
এমএইচআর

