যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরান যুদ্ধে পরিস্থিতির মধ্যে ইরানের হামলার ছবি এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগে বিভিন্ন দেশে নাগরিকসহ ৩১৩ জনকে গ্রেফতার করেছে কাতার।
সোমবার দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘গ্রেফতারকৃতরা ভিডিও চিত্র ধারণ ও প্রচার করেছেন এবং এমন বিভ্রান্তিকর তথ্য ও গুজব ছড়িয়েছেন; যা জনমনে উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে।’
এতে আরও বলা হয়, মন্ত্রণালয়ের অপরাধ তদন্ত বিভাগের আওতাধীন অর্থনৈতিক ও সাইবার অপরাধ দমন বিভাগ কর্তৃক গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে বিভিন্ন দেশের নাগরিক রয়েছেন।
বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষকে যেকোনো ধরনের ভিডিও ধারণ, প্রকাশ বা গুজব ছড়ানো থেকে বিরত থাকার জন্য কঠোর নির্দেশ দিয়েছে কাতার সরকার।
মন্ত্রণালয় বিশেষভাবে জোর দিয়ে বলেছে, যেকোনো খবরের সত্যতা যাচাই করতে এবং তথ্য পেতে জনসাধারণকে যেন কেবল অনুমোদিত সরকারি উৎসের ওপর নির্ভর করে। ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে কাতার প্রশাসন।
বিজ্ঞাপন
এর আগে গত ৬ মার্চ বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরানি হামলার প্রভাব নিয়ে ভিডিও ধারণ ও প্রচার এবং মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর দায়ে চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এছাড়াও কুয়েত কর্তৃপক্ষও গত ৭ মার্চ দেশটির পরিস্থিতি নিয়ে উপহাস করে ভিডিও তৈরির অভিযোগে তিনজনকে গ্রেফতার করেছে।
অন্যদিকে সংবেদনশীল ছবি শেয়ার করা বা অনির্ভরযোগ্য তথ্য পুনরায় প্রচারের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে সতর্ক করে বাসিন্দাদের মাঝে খুদে বার্তা দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। একই ধরনের সতর্কতা জারি করেছে সৌদি আরবও।
প্রসঙ্গত, গত ১ মার্চ সকাল থেকে যৌথভাব ইরানে আকস্মিক হামলা শুরু করে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। জবাবে ইসরায়েল, কাতার, বাহরাইন, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে অবস্থিত মার্কিন সামারিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে ইরান। পাশাপাশি গত কয়েক দিনে এসব দেশের সরকারি ভবন ও জ্বালানি অবকাঠামোগুলোতেও বেশ কয়েক দফা হামলা করেছে তেহরান। সম্প্রতি ইরানি প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান প্রতিবেশী দেশগুলোতে হামলার জন্য ক্ষমা চেয়েছেন, তা সত্ত্বেও দেশগুলোতে ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ অব্যাহত রেখেছে ইরান।
সূত্র: দ্য স্ট্রেইট টাইমস, এএফপি
এমএইচআর

