শনিবার, ৭ মার্চ, ২০২৬, ঢাকা

মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার আরও একটি ‘চোখ’ নষ্ট করল ইরান! 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৭ মার্চ ২০২৬, ০৩:২৬ পিএম

শেয়ার করুন:

মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার আরও একটি ‘চোখ’ নষ্ট করল ইরান! 

উপসাগরীয় অঞ্চলে আগেই আমেরিকার একটি ‘চোখ’ নষ্ট করেছিল ইরান। এবার তাদের হামলার ওই অঞ্চলেই আমেরিকার আরও একটি শক্তিশালী ‘চোখ’ ধ্বংস করা হয়েছে বলে ফের দাবি করল ইরান। 

কাতারে আমেরিকার শক্তিশালী রেডার ব্যবস্থা এফপিএস ১৩২-কে ধ্বংস করার পর এবার জর্ডানে আরও শক্তিশালী ‘থাড’ (টার্মিনাল হাই অল্টিটিউড এরিয়া ডিফেন্স) রেডার ব্যবস্থাকেও গুঁড়িয়ে দিল ইরান। 


বিজ্ঞাপন


৩০ কোটি ডলার ব্যয় করে নির্মিত এই রেডার ব্যবস্থা জর্ডানের মুয়াফ্‌ফক সাল্টি সেনাঘাঁটিতে মোতায়েন করেছিল আমেরিকা। অত্যাধুনিক এই রেডার ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে আমেরিকাকে হুঁশিয়ারি দিয়েছে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দেশ।

জর্ডানে আমেরিকার এই সেনাঘাঁটিতে জোরালো হামলা চালিয়েছে ইরান। রেডার ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয় বলে ইরানের সংবাদমাধ্যমের দাবি। শুধু তা-ই নয়, জর্ডান ছাড়াও সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং সৌদি আরবে মার্কিন সেনাঘাঁটিতে রেডার ব্যবস্থাকে নিশানা করা হয়েছে।

জর্ডানের মার্কিন সেনাঘাঁটি ইরান থেকে ৮০০ কিলোমিটার দূরে। আর এই সেনাঘাঁটি পশ্চিম এশিয়ায় আমেরিকার অন্যতম বড় সেনাঘাঁটিগুলির মধ্যে একটি।

উপগ্রহচিত্রে এই সেনাঘাঁটির ‘থাড’ রেডার ব্যবস্থার কাছে বিশাল বড় আকৃতির দু’টি গর্ত ধরা পড়েছে। উপগ্রহচিত্রকে উল্লেখ করে সংবাদমাধ্যম সিএনএন আগেই দাবি করেছিল, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আরটিএক্স কোর এএন/টিরিওয়াই-২ রেডার ব্যবস্থা ধ্বংস হয়েছে। 


বিজ্ঞাপন


যদিও আমেরিকার তরফে এ কথা প্রথমে স্বীকার করা হয়নি। তবে পরে মার্কিন প্রশাসনের একটি সূত্রে রেডার ব্যবস্থা নষ্ট হওয়ার কথা স্বীকার করা হয়।

‘থাড’-এর পুরো নাম ‘টার্মিনাল হাই অলটিটিউড এরিয়া ডিফেন্স’। এই আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে মোতায়েন করা হয়েছিল বায়ুমণ্ডলের ওপর থেকে মহাকাশ ছুঁয়ে আসা ক্ষেপণাস্ত্রকে রুখে দেওয়ার জন্য। অর্থাৎ ‘স্পেস মিসাইল’-এর নজরদারির জন্যই এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ৩০ কোটি ডলার খরচ করে তৈরি করেছিল আমেরিকা।

সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের তথ্য বলছে, আমেরিকার কাছে এ রকম মোট আটটি ‘থাড’ রেডার ব্যবস্থা রয়েছে। তার মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়া এবং গুয়ামেও এই প্রতিরক্ষাব্যবস্থা মোতায়েন রয়েছে।

কোনও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যবস্তুকে নিশানা করার আগেই এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেটিকে ধ্বংস করে। তবে এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় কোনও বিস্ফোরক থাকে না। 

গতিশক্তিকে কাজে লাগিয়ে শত্রুপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্র নিষ্ক্রিয় করে দেয়। এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় অত্যন্ত উন্নতমানের রেডার আছে যেটি ১০০০ কিলোমিটার দূর থেকেই ক্ষেপণাস্ত্র বা হামলাকারী ড্রোনের হদিস পেয়ে যায়।

লকহিড মার্টিন এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার নির্মাতা। দক্ষিণ কোরিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইসরায়েল, জর্ডান এবং সৌদি আরবে এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন রয়েছে। 

তার মধ্যে জর্ডানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করা হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরান। প্রসঙ্গত, গত ফেব্রুয়ারিতেই জর্ডানে এই রেডার ব্যবস্থা মোতায়েন করেছিল আমেরিকা।

দিন কয়েক আগেই কাতারে আমেরিকার সবচেয়ে শক্তিশালী রেডার ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে ইরান। ইরান সেনাবাহিনীকে উদ্ধৃত করে তেহরান টাইমস-এর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, এএন/এফপিএস-১৩২ রেডার ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। যার পাল্লা ৫০০০ কিলোমিটার। এই রেডার ব্যবস্থাকে পুরোপুরি নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। 

আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় এফপিএস ১৩২ রেডার অপরিহার্য। কারণ, অত্যন্ত নিখুঁতভাবে, সময়ের সঙ্গে ‘শত্রু’ পক্ষের কোনো ড্রোন, রকেট বা ক্ষেপণাস্ত্রকে সহজেই চিহ্নিত করে তৎপরতার সঙ্গে ব্যবস্থা নিতে পারে। ডিফেন্স সিকিউরিটি এশিয়া-র প্রতিবেদন বলছে, এফপিএএস-১৩২ রেডারটি কাতারের আল উদেইদে মার্কিন বায়ুসেনাঘাঁটিতে ছিল। ২০১৩ সালে এই সেনাঘাঁটিতে রেডার ব্যবস্থাটিকে বসানো হয়েছিল।

-এমএমএস

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর