শ্রীলঙ্কার উপকূলে মার্কিন সাবমেরিনের হামলায় একটি ইরানি যুদ্ধজাহাজ ডুবি ও ৮৭ নাবিক মৃত্যুর পর ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার। এর মধ্যেই ভারতীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি, যেদিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল ইরানের হামলা শুরু করেছিল সেদিনই একটি ইরানি যুদ্ধজাহাজ ও ১৮৩ নাবিককে আশ্রয় দিয়েছে তারা।
গত ১৮ থেকে ২৫ ফেব্রুয়ারি বঙ্গোপসাগরে অনুষ্ঠিত ভারতের আয়োজিত বার্ষিক নৌ মহড়ায় ‘মিলান ২০২৬’-এ অংশ নিয়েছিল ইরানের বেশ কিছু যুদ্ধজাহাজ। তবে মহড়া শেষ ইরানে ফেরার আগেই যুদ্ধ শুরু হয়ে যায়। এর মধ্যেই গত বুধবার পূর্ব ভারতের একটি বন্দর থেকে ইরানের দিকে যাত্রা করা ‘আইআরআইএস ডেনা’ নামে একটি ইরানি যুদ্ধ জাহাজে হামলা চালায় একটি মার্কিন সাবমেরিন। এতে কমপক্ষে ৮৭ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়াও ৩২ জনকে জীবিত উদ্ধার করে লঙ্কান নৌবাহিনী।
বিজ্ঞাপন
এদিকে যুদ্ধজাহাজটি ভারত আমন্ত্রণেই এই অঞ্চলে এসেছিল, তবে মোদি সরকার তাদের উপকূলে আমন্ত্রিত একটি জাহাজে হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি, যা ব্যাপক সমালোচনা জন্ম দেয়।
তবে শুক্রবার ভারত সরকার বলেছে, আইআরআইএস ডেনার সঙ্গে নৌ মহড়ায় অংশগ্রহণকারী ‘আইআরআইএস লাভান’ নামে একটি ইরানি যুদ্ধজাহাজকে আশ্রয় দিয়েছে।
সরকারি সূত্রের বরাতে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি, যেদিন ইসরায়েল এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যের দেশটিতে তাদের হামলা চালিয়ে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যা করেছিল সেদিনই আইআরআইএস লাভান উভচর কারিগরি সমস্যা দেখা দেওয়ায় সাহায্যের জন্য ভারতের সাথে যোগাযোগ করেছিল।
একদিন পরে ১ মার্চ তাদের অনুরোধ অনুমোদিত হয় এবং গত বুধবার জাহাজটি ভারতের দক্ষিণ উপকূলীয় রাজ্য কেরালার কোচিতে নোঙ্গর করে, যেদিন আইআরআইএস ডেনায় হামলা চালিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র।
ভারতীয় কর্মকর্তারা জানান, ভারত সরকার ইরানি জাহাজের ১৮৩ জন নাবিকের কোচির একটি নৌ-সেনাঘাঁটিতে থাকার ব্যবস্থা করেছে।
বিজ্ঞাপন
এদিকে তিনটি ইরানি জাহাজ ৯ ও ১৩ মার্চ শ্রীলঙ্কা সফরের অনুমতি চেয়ে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে আবেদন করেছে বলে জানিয়েছের শ্রীলঙ্কান প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়েকে।
বৃহস্পতিবার রাতে অনুষ্ঠিত বিশেষ সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি জানান, ইরানি সরকার ২৬ ফেব্রুয়ারি সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে এই সফরের জন্য শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে অনুমতি চেয়েছিল।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, জাহাজগুলো ইতোমধ্যে শ্রীলঙ্কার জলসীমার কাছে অবস্থান করছিল এবং মানবিক অনুরোধে জাহাজের দু’জন কর্মকর্তাকে দেশে আনা হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট দিসানায়েকে বলেন, চলমান বা ভবিষ্যতের কোনো আন্তর্জাতিক সংঘাতে শ্রীলঙ্কার ভূখণ্ড, সমুদ্রসীমা কিংবা আকাশসীমা কোনোভাবেই ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।
এছাড়াও ‘আইআরআইএস বুশেহর’ নামের একটি ইরানি জাহাজ শ্রীলঙ্কার কলম্বো বন্দরের কাছে এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোন এলাকায় নোঙর করা রয়েছে। জাহাজটি শ্রীলঙ্কার জলসীমায় প্রবেশের অনুমতি চেয়েছে এবং ইতোমধ্যেই জাহাজের ক্রুদের উদ্ধার করে তীরে আনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন শ্রীলঙ্কান প্রেসিডেন্ট।
তিনি বলেন, শ্রীলঙ্কায় ইরানি দূতাবাস ও শ্রীলঙ্কা সরকারের মধ্যে আলোচনার পর ক্রুদের উদ্ধারের সিদ্ধান্ত নেন সংশ্লিষ্ট জাহাজের অধিনায়ক। সেই অনুযায়ী আমাদের নৌবাহিনীর জাহাজগুলো ওই জাহাজের কাছে পৌঁছেছে এবং ক্রুদের উদ্ধারকাজে নিয়োজিত রয়েছে।
দিসানায়েকে বলেন, আমাদের কাছে যে তথ্য রয়েছে, তাতে ২০৮ জন ক্রুকে তীরে আনার জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫৩ জন কর্মকর্তা, ৮৪ জন ক্যাডেট, ৪৮ জন সিনিয়র নাবিক এবং ২৩ জন নাবিক রয়েছেন।
লঙ্কান প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ‘আমরা এখন ওই ২০৮ জনকে জাহাজ থেকে আমাদের নৌযানে নিয়ে এসে কলম্বো বন্দরে আনার প্রক্রিয়া শুরু করেছি। এরপর ওই জাহাজের ক্রু ও আমাদের নাবিকদের ত্রিনকমালি বন্দরের এলাকায় নেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।’
সূত্র: আলজাজিরা, এনডিটিভি
এমএইচআর

