নেপালে আজ বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) চলছে সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। বাংলাদেশের পরে এবার নেপালেও সংসদ নির্বাচনের একই সঙ্গে চলছে গণভোটও।
স্্থানীয় সময় সকাল ৭টা থেকে এই ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে, চলবে বিকাল ৫টা পর্যন্ত। শেষ সময়ে লাইনে অপেক্ষমাণ ভোটাররাও ভোট দিতে পারবেন।
বিজ্ঞাপন
নির্বাচন উপলক্ষ্যে দেশটিতে ৩ দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। স্কুল ও সরকারি ভবনে তৈরি করা হয়েছে ভোটকেন্দ্র।
ঘটনাচক্রে, গণঅভ্যুত্থানে সরকার পতনের পর ভারতের আরেক প্রতিবেশী দেশ নেপালে গণতন্ত্রে প্রত্যাবর্তন করতে চলেছে।
২০২৪ সালের ৫ অগস্ট আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনার সরকারের পতনের ১৮ মাস পরে গত ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের নির্বাচন ও জুলাই সনদ নিয়ে গণভোট হয়েছিল।
নেপালেও জেন জির আন্দোলন থেকে শুরু হওয়া গণবিক্ষোভের জেরে গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বের পতন হয়েছিল প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলির নেতৃত্বাধীন কমিউনিস্ট পার্টির সরকারের।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন:
বৃহস্পতিবার নতুন করে সাধারণ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ চলেছে হিমালয় ঘেরা পাহাড়ি দেশটিতে। মিল রয়েছে আরও একটি বিষয়ে— বাংলাদেশের মতোই জোড়া ব্যালটে ভোট দেবেন নেপালবাসী।
নেপাল পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ ‘হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভস’-এর ২৭৫ আসনের সদস্যদের বেছে নিতে বৃহস্পতিবার জোড়া ব্যালটে ভোট দেবে নেপাল।
এর মধ্যে ১৬৫টিতে প্রত্যক্ষ এবং ১১০টিতে পরোক্ষ নির্বাচন হবে। মোট ভোটারের সংখ্যা ১ কোটি ৯০ লক্ষেরও বেশি। প্রার্থীর সংখ্যা ৬৫৪১। তাদের মধ্যে ৪০ বছরের কমবয়সি প্রার্থী হাজারেরও বেশি! বুথের সংখ্যা ২৩ হাজার।
২০১৫ সালের নতুন সংবিধান অনুযায়ী নেপালে একটি মিশ্র নির্বাচনী ব্যবস্থা রয়েছে। প্রথম পদ্ধতিটি প্রত্যক্ষ নির্বাচন। একে বলা হয় ‘ফার্স্ট পাস্ট দ্য পোস্ট’ (এফপিটিপি), যেখানে যে প্রার্থী সর্বাধিক ভোট পান— তিনিই আসনটিতে জয়ী হন।
দ্বিতীয়টি হল পরোক্ষ নির্বাচন অর্থাৎ, আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতি (পিআর)। এতে একটি রাজনৈতিক দলের প্রাপ্ত ভোটের অনুপাত হিসাব করে সংশ্লিষ্ট দলের মনোনীত প্রার্থীদের ‘হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভস’-এর সদস্যপদ দেওয়া হয়।
মোট ১৬৫টি আসন এফপিটিপি পদ্ধতিতে এবং বাকি ১১০টি আসন পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচিত হবে। এফপিটিপি-র জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন ৩৪০৬ জন প্রার্থী।
পিআর-এর জন্য ৩১৩৫ জন। নেপালের সংবিধান প্রণেতাদের ব্যাখ্যা ছিল— দু’টি পদ্ধতি রাখার উদ্দেশ্য হল, পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করা এবং সমাজে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব বজায় রাখা।
এ ব্যবস্থায় কোনও রাজনৈতিক দলের পক্ষে একক ভাবে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া কঠিন হয়। বাড়ে জোট সরকার গঠনের সম্ভাবনা।
সরকার পতনের তিনদিন পরে, ১২ সেপ্টেম্বর সে দেশের সুপ্রিম কোর্টের সাবেক প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কী অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসাবে শপথ নিয়েছিলেন।
ওই সময়েই নেপালের প্রেসিডেন্টের দফতর থেকে ঘোষণা করা হয়েছিল, আগামী বছরের ৫ মার্চ নির্বাচন হবে। ১৬ নভেম্বর নেপাল নির্বাচন কমিশন আনুষ্ঠানিক ভাবে ভোটের দিন ঘোষণা করেছিল।
নভেম্বরের গোড়া থেকেই ভোটের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকার এবং নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয়ে নেপালের সব প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে প্রস্তুতি বৈঠক সেরেছেন কার্কী।
নির্বাচন প্রসঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলির মতামত জানতে চেয়েছে কমিশন। তার ভিত্তিতে গত ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত মনোনয়ন জমা নেওয়া হয়েছিল।
ওই দিনই রাতে প্রার্থীদের নামের প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ করে দিয়েছিল কমিশন। মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ছিল ২৩ জানুয়ারি। ওই দিনই বিকেলে প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়েছিল।
আরও পড়ুন:
নেপালের জেন জির বড় অংশের পছন্দ সাবেক গায়ক তথা রাজধানী কাঠমান্ডুর সাবেক মেয়র বলেন্দ্র শাহ। গত সেপ্টেম্বরে জেন জির আন্দোলনের অন্যতম পৃষ্ঠপোষক ছিলেন তিনি।
এবার ঝাপা-৫ আসনে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী তথা কমিউনিস্ট পার্টি অফ নেপাল (ইউএমএল)-এর প্রধান কেপি শর্মা ওলির বিরুদ্ধে লড়ছেন বলেন্দ্র।

তার দল রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি ২০২২ সালের সাধারণ নির্বাচনে চতুর্থ স্থানে ছিল। সাধারণ নির্বাচনের আগেই সে দেশের প্রাচীনতম রাজনৈতিক দল নেপালি কংগ্রেসের অন্দরে অভ্যুত্থান ঘটিয়ে প্রবীণ সাবেক প্রধানমন্ত্রী শের বাহাদুর দেউবাকে সভাপতি পদ থেকে সরিয়েছিলেন ৪৯ বছরের গগন থাপা।
তিনিও এবার প্রধানমন্ত্রিত্বের দৌড়ের অন্যতম মুখ। লড়াইয়ে রয়েছেন প্রাক্তন মাওবাদী গেরিলা নেতা তথা প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী পুষ্পকমল দহাল ওরফে প্রচণ্ডও।
নেপালি কমিউনিস্ট পার্টির প্রধান পূর্ব রুকুম আসন থেকে ভোটে লড়ছেন। জেন জির আন্দোলনে ওলি সরকারের পতনের পর দফায় দফায় রাজতন্ত্রের প্রত্যাবর্তনের দাবিতে নেপালে আন্দোলন করেছে রাজেন্দ্র লিংডেনের নেতৃত্বাধীন রাষ্ট্রীয় প্রজাতন্ত্র পার্টি। এবার তার দিকেও নজর রয়েছে ভোটারদের।
-এমএমএস

