ইসলামাবাদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস এবং করাচি ও লাহোরের কনস্যুলেটসহ পাকিস্তানের সব ধরনের ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
মূলত দেশটির বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় এই জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। খবর আল-জাজিরার।
বিজ্ঞাপন
মার্কিন দূতাবাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই স্থগিতাদেশ আগামী শুক্রবার (৬ মার্চ) পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। সম্প্রতি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর সংবাদকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানে ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
বিশেষ করে করাচি কনস্যুলেটে বিক্ষোভকারীরা হামলার চেষ্টা চালালে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে অন্তত ২৫ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়।
উদ্ভূত এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সকল ধরণের ভিসা কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মার্কিন প্রশাসন।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার প্রতিবাদে পাকিস্তানে শুরু হওয়া রক্তক্ষয়ী বিক্ষোভের পরিপ্রেক্ষিতে দেশটিতে সামরিক বাহিনী তলব করা হয়েছে।
কিছু এলাকায় তিন দিনের সান্ধ্য আইন (কারফিউ) জারি করা হয়েছে। গত রোববার দেশজুড়ে বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ২৪ জন নিহত এবং কয়েক ডজন মানুষ আহত হয়েছেন।
পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় কর্তৃপক্ষ রাজধানী ইসলামাবাদসহ বিভিন্ন শহরে মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটগুলোর নিরাপত্তা জোরদার করেছে।
সোমবার ভোরের আগে উত্তরের গিলগিট-বালতিস্তান অঞ্চলের গিলগিট, স্কার্দু এবং শিগায়ার জেলায় কারফিউ জারি করা হয়েছে।
সরকারি তথ্যমতে, এই অঞ্চলে সংঘর্ষের সময় অন্তত ১২ জন বিক্ষোভকারী এবং একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। উদ্ধারকারী কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গিলগিট শহরে নিহত হয়েছেন ৭ জন। অন্যদিকে, স্কার্দু শহরে নিহত হয়েছেন ৬ জন।
-এমএমএস

