ইরানের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যেই ইসরায়েলে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের কর্মীদের মধ্যে যারা ইসরায়েল ত্যাগ করতে চান, তাদের ‘আজই’ দেশটির ত্যাগ করার নির্দেশ দিয়েছেন জেরুজালেমে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি।
নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ২৪ মিনিটে মার্কিন মিশনের কর্মীদের কাছে পাঠানো একটি ইমেলে রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি লিখেছে, ‘দূতাবাসের জরুরি নয় এমন কর্মীদের যুক্তরাষ্ট্রের যেখানেই হোক একটি সিট নিশ্চিত করে নিন। সেখান থেকে পরে ওয়াশিংটন ডিসিতে যাওয়া যাবে; তবে প্রথম অগ্রাধিকার হলো দ্রুত ইসরায়েল ত্যাগ করা।’
বিজ্ঞাপন
হাকাবি আরও লিখেছেন, ‘আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই, তবে যারা যেতে চান তাদের জন্য দেরি না করে দ্রুত চলে যাওয়ার পরিকল্পনা করা গুরুত্বপূর্ণ।’
প্রসঙ্গত, ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সেনা ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালানোর হবে। এমনকি ইসরায়েলে আক্রমণের হুমকিও দিয়েছে তেহরান, যার অর্থ মধ্যপ্রাচ্যে আবারও আঞ্চলিক যুদ্ধ শুরু হতে পারে।
এদিকে সম্ভাব্য যুদ্ধ পরিস্থিতে ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে ইতোমধ্যেই মধ্যপ্রচ্যের বিভিন্ন ঘাঁটি থেকে বেশ কিছু সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম সরিয়ে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সর্বশেষ বাহরাইনে মোতায়েন যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহর থেকে নিজেদের সব জাহাজ সরিয়ে নিয়েছে মার্কিন নৌবাহিনী। গত বছরের জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার আগেও বাহরাইন থেকে নিজেদের জাহাজ সরিয়ে নিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন-ইরান আলোচনা
বিজ্ঞাপন
কয়েক সপ্তাহ ধরে চলমান উত্তেজনা ও সামরিক সংঘাতের শঙ্কার মধ্যেই গতকাল বৃহস্পতিবার তৃতীয় দফার পরোক্ষ আলোচনায় বসে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরান।
ওমানের মধ্যস্থতায় সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় দেশ দুটির উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা এই আলোচনায় ইরানের পক্ষ থেকে নেতৃত্ব দেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। অপরদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে ছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকোফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জের্ড ক্রুসনার।
এদিন দুই দফার আলোচনাও কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি দুই দেশ। তবে আগামী সপ্তাহে আবারও আলোচনায় বসতে পারে ওয়াশিংটন ও তেহরান।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, বৃহস্পতিবারের আলোচনায় মার্কিন পক্ষ ইরানকে তার তিনটি প্রধান পারমাণবিক স্থাপনা ভেঙে ফেলার এবং অবশিষ্ট সমস্ত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তরের দাবি জানিয়েছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের এই দাবি প্রত্যাখ্যনি করে শুক্রবার ইরান বলেছে, যেকোনো একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে তার ‘অতিরিক্ত দাবি’ ত্যাগ করতে হবে।
যদিও আলোচনা এখনো শেষ হয়নি কিন্তু ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার শঙ্কা রয়ে গেছে এবং যেকোনো মুহূর্তে ইরানে হামলা শুরু করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র।
ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক সামরিক উপস্থিতি নিয়ে উত্তেজনা বেড়েছে। ২০০৩ সালে মার্কিন নেতৃত্বাধীন বাহিনীর ইরাক আক্রমণের পর মধ্যপ্রাচ্যে সব থেকে বড় সেনা সমাবেশ করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। যার মধ্যে রয়েছে বিমানবাহী রণতরী, ও ৩০০ টিরও বেশি সামরিক বিমান। এছাড়াও ইসরায়েলে পৌঁছেছে তাদের ১২টি এফ-২২ স্টিলথ যুদ্ধবিমান, যা যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রাগারের মধ্যে সবচেয়ে উন্নত যুদ্ধবিমান। এই বিমানগুলোও ইরানের বিরুদ্ধে তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং রাডার স্থাপনা ধ্বংস করার জন্য ব্যবহার করা হতে পারে।
সূত্র: আলজাজিরা, এনডিটিভি
এমএইচআর

