শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

দুর্নীতি মামলায় খালাস পেলেন দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী কেজরিওয়াল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৪:২৮ পিএম

শেয়ার করুন:

দুর্নীতি মামলায় খালাস পেলেন দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী কেজরিওয়াল

আবগারি দুর্নীতি মামলায় ভারতের রাজধানী দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও আম আদমি পার্টির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং সাবেক উপ-মুখ্যমন্ত্রী মণীশ সিসোদিয়াকে বেকসুর খালাস করার নির্দেশ দিয়েছে একটি আদালত। আদালতের পর্যবেক্ষণ, দিল্লির আবগারি নীতি প্রণয়নের ক্ষেত্রে কোনও সামগ্রিক ষড়যন্ত্র বা অপরাধমূলক উদ্দেশ্যের প্রমাণ মেলেনি।

শুক্রবার (২৭ ফেব্রয়ারি) দিল্লির রাউস অ্যাভিনিউ কোর্টের বিশেষ বিচারক (পিসি অ্যাক্ট) জিতেন্দ্র সিং আলোচিত এই রায় ঘোষণা করেন। 


বিজ্ঞাপন


রায়ে বিচারক বলেন, প্রমাণের অভাবে দিল্লি আবগারি দুর্নীতি কাণ্ডে অভিযুক্ত ২৩ জনকেই মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হচ্ছে। অভিযোগের সপক্ষে উপযুক্ত তথ্যপ্রমাণ দিতে ব্যর্থ হয়েছে তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই। পাশাপাশি সিবিআইয়ের কাজকর্মেরও তীব্র সমালোচনা করেছে আদালত, বিশেষ করে রাজসাক্ষীর বয়ানের ওপর নির্ভরতা নিয়ে। 

আদালতের মতে, সিবিআই একটা ষড়যন্ত্রের তত্ত্ব খাড়া করার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু তার ভিত্তি ছিল শুধুই অনুমান, কোনও সঠিক প্রমাণ নয়। সিবিআই তদন্তের রেকর্ডে ব্যবহৃত ‘সাউথ গ্রুপ’ শব্দটির কোনো স্পষ্ট আইনি বা তথ্যগত ভিত্তি নেই বলে আপত্তি জানায় আদালত। আপ প্রধান কেজরিওয়ালের ক্ষেত্রে আদালতের পর্যবেক্ষণ, গুরুতর অভিযোগের ক্ষেত্রে জোরালো তথ্যপ্রমাণ প্রয়োজন। কিন্তু তেমন কোনও তথ্যপ্রমাণ দাখিল করতে পারেনি তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই। 

আদালত বলেছে, কোনও অভিযুক্তকে ক্ষমা করে রাজসাক্ষী বানানো এবং তারপর তার বয়ানকে ব্যবহার করে তদন্তের ফাঁকফোকর ভরা বা নতুন কাউকে মামলায় জড়ানো একেবারেই অনুচিত। বিচারক সতর্ক করে বলেন, এই ধরনের কাজের অনুমতি দিলে তা সাংবিধানিক নীতির গুরুতর লঙ্ঘন হবে।

প্রসঙ্গত, দিল্লির তৎকালীন আম আদমি পার্টি সরকারের আনা ২০২১-২২ সালের আবগারি নীতি নিয়েই এই দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে, যা পরে বাতিল করে দেওয়া হয়। 


বিজ্ঞাপন


সিবিআইয়ের অভিযোগ ছিল, লাইসেন্স ফি কমিয়ে এবং লাভের হার নির্দিষ্ট করে কয়েকটি বেসরকারি সংস্থাকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার জন্য এই নীতি তৈরি করা হয়েছিল। এর বদলে মোটা টাকা ঘুষ নেওয়া হয়, যার ফলে দিল্লি সরকারের বিপুল আর্থিক ক্ষতি হয়। 

দিল্লির লেফটেন্যান্ট গভর্নর ভিকে. সাক্সেনার অভিযোগের ভিত্তিতে ২০২২ সালের আগস্ট মাসে সিবিআই এই এফআইআর দায়ের করে। তাদের দাবি ছিল, টেন্ডার প্রক্রিয়ার পরে নির্দিষ্ট কিছু মদ ব্যবসায়ীকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার জন্য নীতি তৈরির সময়েই ইচ্ছাকৃতভাবে ফাঁক রাখা হয়েছিল। 

এককই মামলায় ২০২৪ সালের ২২ মার্চ অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে গ্রেফতার করে ভারতের অর্থনৈতিক গোয়েন্দা সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টোরেট (ইডি)। 

সূত্র: এনডিটিভি, হিন্দুসতান টাইমস

এমএইচআর

 

 

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর