সীমান্তে অর্তকিত হামলার জবাবে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ‘প্রকাশ্য যুদ্ধ’ ঘোষণা করেছে পাকিস্তান। এর ফলে দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে চলা দুই প্রতিবেশী দেশের সীমান্ত উত্তেজনা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। উভয় দেশই সংঘর্ষে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কথা জানিয়েছে। এ নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে জাতিসংঘ ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশ।
জাতিসংঘ
পাকিস্তান-আফগানিস্তান সংঘাত পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং সহিংসতা বৃদ্ধিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।
শুক্রবার জাতিসংঘের মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিকের এক বিবৃতিতে বলেন, গুতেরেস উভয় দেশকে আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে তাদের বাধ্যবাধকতা কঠোরভাবে মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন, বিশেষ করে আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের ওপর জোর দিয়েছেন।
এছাড়াও সংঘর্ষ অব্যাহত থাকায় বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার জন্য উভয় পক্ষের জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন মহাসচিব।
ইরান
আফগানিস্তান ও পাকিস্তানকে সংলাপ ও সুপ্রতিবেশীসুলভ নীতির মাধ্যমে তাদের মতপার্থক্য নিরসনের আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। পবিত্র রমজান মাসের তাৎপর্য তুলে ধরে এটিকে আত্মসংযম ও ইসলামী সংহতির উল্লেখযোগ্য সময় হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) ভোরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে আরাঘচি বলেন, ইরান গঠনমূলক সংলাপ এগিয়ে নিতে প্রয়োজনীয় যে কোনো সহায়তা দিতে প্রস্তুত।
তিনি আরও জানান, কাবুল ও ইসলামাবাদের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া গভীর করা এবং সহযোগিতা বাড়াতে তার দেশ সহায়ক ভূমিকা পালনে আগ্রহী।
রাশিয়া
রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাতে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আরআইএ নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, রাশিয়া যুদ্ধরত পক্ষগুলোকে অবিলম্বে সীমান্ত পারস্পরিক আক্রমণ বন্ধ করতে এবং কূটনৈতিক উপায়ে তাদের মতবিরোধ নিরসনের আহ্বান জানিয়েছে। উভয় পক্ষ সম্মত হলে রাশিয়া মধ্যস্থতার প্রস্তাবও দিয়েছে।
চীন
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে উত্তেজনা বৃদ্ধিতে বেইজিং গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।
শুক্রবার নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং বলেন, চীন উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার এবং সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানাচ্ছে... যত তাড়াতাড়ি সম্ভব যুদ্ধবিরতি সম্পন্ন করতে এবং আরও রক্তপাত এড়াতে নিজস্ব চ্যানেলের মাধ্যমে এই সংঘাতের মধ্যস্থতা করছে।
তিনি আরও বলেন, পরিস্থিতি শান্ত করার জন্য চীন গঠনমূলক ভূমিকা পালন করতে ইচ্ছুক।
এরআগে বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাতের দিকে পাকিস্তানের সীমান্ত এলাকায় হামলা চালায় আফগানিস্তান। তালেবান কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, গত সপ্তাহে পাকিস্তানি বিমান হামলার জবাবে সীমান্তের পাকিস্তানি সামরিক অবস্থানগুলো লক্ষ্য করে তারা পাল্টা হামলা চালিয়েছে।
তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ বিবিসিকে বলেছেন, আফগান বাহিনী পাকিস্তানের ১৯টি সীমান্ত চৌকি ধ্বংস করেছে এবং বেশ কিছু পাকিস্তানি সৈন্যকে আটক করেছে।
তিনি আরও দাবি করেন, এ হামলায় ৫০ জনের বেশি পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছে। তবে এই সংখ্যার বিষয়টি কেউ স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করেনি।
এরপরই জবাবে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন গজব লিল হক’ শুরু করেছে পাকিস্তান। এ অভিযানের অংশ হিসেবে দেশটির রাজধানী কাবুল এবং পাকতিয়া ও কান্দাহার প্রদেশের পাকিস্তানের বিমান বাহিনীর (পিএএফ) হামলায় ইতোমধ্যে কমপক্ষে ১৩৩ জন আফগান সেনা নিহত হয়েছে এবং আহত হয়েছে প্রায় ২ শতাধিক। এ ছাড়া আফগানিস্তানের সেনাবাহিনীর গোলাবারুদের একটি বড় ডিপোও ইতোমধ্যে ধ্বংস করা করা হয়েছে।
সূত্র: আলজাজিরা
এমএইচআর

