ইরানের সঙ্গে যদি যুদ্ধ বেধে যায় তাহলে বাহরাইনে মোতায়েন যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহরে হামলা চালাতে পারে তেহরান— এমন আশঙ্কা থেকে নিজেদের সক জাহাজ সরিয়ে নিয়েছে মার্কিন নৌবাহিনী। গত বছরের জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার আগেও বাহরাইন থেকে নিজেদের জাহাজ সরিয়ে নিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র।
নতুন স্যাটেলাইট ছবি বরাতে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)।
বিজ্ঞাপন
প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী মনে করে যুক্তরাষ্ট্র এখন এমন পর্যায়ে আছে যেখান থেকে তাদের ফিরে আসার সুযোগ নেই। অর্থাৎ ইরানে তারা হামলা চালাবে। আর এমন হামলার ঠিক আগ মুহূর্তে ইসরায়েলি ঊর্ধ্বতন সামরিক ও রাজনৈতিক কর্মকর্তাদের অবহিত করা হতে পারে।
এদিকে কয়েক সপ্তাহ ধরে চলমান উত্তেজনা ও সামরিক সংঘাতের শঙ্কার মধ্যেই তৃতীয় দফার পরোক্ষ আলোচনায় বসেছে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরান। ওমানের মধ্যস্থতায় বৃহস্পতিবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় দেশ দুটির উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা এই আলোচনায় ইরানের পক্ষ থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। অপরদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে আছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকোফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জের্ড ক্রুসনার।
জেনেভায় অবস্থিত ওমানের দূতাবাসে এ আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে দুই দেশের পুরো আলোচনাই হয়েছে পরোক্ষভাবে। ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর বিন হামাদ আল বুসাইদি মধ্যস্থতাকারী হিসেবে দুই পক্ষের সঙ্গে পৃথকভাবে একাধিক দফায় বৈঠক এবং বার্তা আদান-প্রদান করবেন।
বিজ্ঞাপন
যদিও আলোচনা চলছে কিন্তু ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার শঙ্কা রয়ে গেছে এবং যেকোনো মুহূর্তে ইরানে হামলা শুরু করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র।
ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক সামরিক উপস্থিতি নিয়ে উত্তেজনা বেড়েছে। ২০০৩ সালে মার্কিন নেতৃত্বাধীন বাহিনীর ইরাক আক্রমণের পর মধ্যপ্রাচ্যে সব থেকে বড় সেনা সমাবেশ করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। যার মধ্যে রয়েছে বিমানবাহী রণতরী, ও ৩০০ টিরও বেশি সামরিক বিমান। এছাড়াও ইসরায়েলে পৌঁছেছে তাদের ১২টি এফ-২২ স্টিলথ যুদ্ধবিমান, যা যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রাগারের মধ্যে সবচেয়ে উন্নত যুদ্ধবিমান। এই বিমানগুলোও ইরানের বিরুদ্ধে তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং রাডার স্থাপনা ধ্বংস করার জন্য ব্যবহার করা হতে পারে।
আঞ্চলিক অভিযানের সাথে জড়িত মার্কিন অবসরপ্রাপ্ত এক সামরিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালানো থেকে বিরত থাকবে, এমন সম্ভাবনা প্রতি ঘণ্টায় কমে আসছে। তবে প্রশ্ন হলো প্রথম হামলা কখন হবে, হামলার পরিধি কী হবে এবং কতটা তীব্র হবে?’।
সূত্র: এপি, মিডেল ইস্ট মনিটর
এমএইচআর

