যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা বৃদ্ধির পর ইসরায়েল ও লেবাননে নিযুক্ত কূটনীতিকদের পরিবারের সদস্যদের দেশ দু’টি ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে অস্ট্রেলিয়ার সরকার। একই সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাত, জর্ডান ও কাতারে কর্মরত অস্ট্রেলীয় কূটনীতিকদের পরিবারের সদস্যদেরও স্বেচ্ছায় দেশগুলো ত্যাগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এই নির্দেশনা জারি করেছে।
বিজ্ঞাপন
মূলত, মার্কিন কংগ্রেসের (সিনেট এবং প্রতিনিধি পরিষদ) যৌথ অধিবেশনে ‘বার্ষিক স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন’ ভাষণে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য হামলার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেছেন। তিনি বলেছেন, বিশ্বের সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসবাদী পৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্র ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্রের মালিক হতে দেওয়া হবে না।
ইরানে হামলার বিষয়ে ট্রাম্প এমন এক সময় এই হুমকি দিয়েছেন, যখন ইরানে সম্ভাব্য হামলার আগের পুরো মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র নজিরবিহীন সামরিক শক্তি মোতায়েন করেছে। এ নিয়ে ওই অঞ্চলে তীব্র উত্তেজনা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
অন্যদিকে ইরান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনও মাত্রার হামলা হলে ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিতে আঘাত হানবে তেহরান। যদিও বৃহস্পতিবার জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিতীয় দফায় পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে পরোক্ষ আলোচনায় বসছে ইরান।
মধ্যপ্রাচ্যে হাজার হাজার অস্ট্রেলিয়ান বসবাস করছেন বলে অনুমান করা হয়, যাদের অনেকেই সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইসরায়েল এবং লেবাননে রয়েছেন। গত বছর ১২ দিনের ইসরায়েল-ইরান যুদ্ধের সময় অস্ট্রেলিয়ান সরকার ইসরায়েল থেকে নাগরিকদের সরিয়ে নিয়েছিল।
বিজ্ঞাপন
অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, বাণিজ্যিকভাবে দেশ ছাড়ার সুযোগ থাকা অবস্থায় ইসরায়েল ও লেবাননে অবস্থানরত অস্ট্রেলীয় নাগরিকদের চলে যাওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় সরকারের পরামর্শ বহাল রয়েছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের কোনও দূতাবাস বা কনস্যুলেট বন্ধের ঘোষণা দেয়নি ক্যানবেরা।
সূত্র: রয়টার্স
এমএইচআর

