দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ইসরায়েলে পৌঁছেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। গত আট বছরের মধ্যে এটি তার দ্বিতীয় ইসরায়েল সফর। এই সফরে তিনি ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটে একটি বিশেষ ভাষণ দেবেন, যা দুই দেশের ক্রমবর্ধমান বন্ধুত্বের প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) তেল আবিবের বেন গুরিওন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও তার স্ত্রী। এ সময় মোদিকে লাল গালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এরপর মোদিকে নিয়ে মঞ্চে উপস্থিত হন তিনি। সেখানে তারা দুজন দাঁড়ানোর পর ইসরায়েলি জাতীয় সংগীত বাজানো হয়।
বিজ্ঞাপন
ইসরায়েলে যাওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেছিলেন, তিনি তার বন্ধু ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে আলোচনার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন, যার লক্ষ্য বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও জোরদার করা এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিষয়গুলোতে মতামত বিনিময় করা।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গত সপ্তাহে মোদিকে তার ‘ঘনিষ্ঠ বন্ধু’ হিসেবে অভিহিত করে এই সফরের ঘোষণা দিয়েছিলেন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, ২০১৭ সালে তেলআবিবে ঐতিহাসিক সফরের পর মোদির এই সফরের উভয় দেশ তাদের কৌশলগত অংশীদারিত্বের জন্য নতুন লক্ষ্য স্থাপন করবে। ভারত- ইসরায়েলের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক অংশীদারিত্বের অংশ হিসেবে প্রযুক্তি সহযোগিতা, নিরাপত্তা সহযোগিতা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, কৃষি, পানি ব্যবস্থাপনা এবং বাণিজ্যের ক্ষেত্রে একাধিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
অন্যদিকে মোদির সফরের আগেই ভারতের সঙ্গে একটি সম্ভাব্য জোট গঠনের ইঙ্গিত দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
বিজ্ঞাপন
তিনি জানিয়েছেন, এই জোটে ভারত ছাড়াও গ্রিস এবং সাইপ্রাস থাকতে পারে। এ ছাড়াও আরব, আফ্রিকা এবং এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশকে এই জোটের অংশ করতে ইচ্ছুক ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী। তবে জোটের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসাবে ভারতকেই চাইছেন তিনি।
নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, জোটের সম্ভাব্য নাম ‘হেক্সাগন’ বা ‘ষড়ভুজ’।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মূলত মধ্যপ্রাচ্যকে চারদিক থেকে বাঁধতে চাইছেন নেতানিয়াহু। আর সে কারণেই এই জোট তৈরির পরিকল্পনা বলে মনে করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, সৌদি আরব, পাকিস্তান, তুরস্ক যে ‘ইসলামিক ন্যাটোর’ কথা ভাবছে, তার পাল্টা জোট চাইছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী।
এদিকে আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি এখন নেসেটে মোদির দেওয়া ভাষণের দিকে, যেখানে তিনি ভারত-ইসরায়েল সম্পর্কের ভবিষ্যৎ রূপরেখা তুলে ধরতে পারেন। দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতি ও বিশ্ব কূটনীতিতে ভারতের অবস্থান শক্ত করতে এই সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল, এনডিটিভি
এমএইচআর

