ইরানের মধ্যাঞ্চলে একটি ফলের বাজারে দেশটির সেনাবাহিনীর একটি সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় কমপক্ষে চারজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন- হেলিকপ্টারের দুই সামরিক পাইলট এবং বাজারের দুই ব্যবসায়ী।
ইরানি রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকালে ইসফাহান প্রদেশের দোরচে শহরে এই দুর্ঘটনা ঘটে, যেখানে সেনাবাহিনীর একটি প্রধান বিমানঘাঁটি রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হওয়ার সঠিক কারণ এখনো জানা জায়নি, তবে ধারণা করা হচ্ছে- সম্ভবত বিমানের কারিগরি ত্রুটির কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার কারণ তদন্তাধীন।
📹 شهادت خلبان و کمک خلبان بالگرد هوانیروز
— خبرگزاری تسنیم (@Tasnimnews_Fa) February 24, 2026
این بالگرد صبح امروز در حین پرواز در محدوده میدان میوه و ترهبار شهر درچه بهعلت نقص فنی دچار سانحه شد https://t.co/QRjy48Untr pic.twitter.com/kA89Zm3umk
দুর্ঘটনাস্থল থেকে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে সম্প্রচারিত ফুটেজে ধ্বংসাবশেষ এবং জরুরি উদ্ধারকারীদের আগুন নেভানোর কাজ দেখা গেছে।
এদিকে ইরানি সেনাবাহিনীর বিমান চলাচল প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বিধ্বস্ত হেলিকপ্টারের নিহত পাইলট কর্নেল হামেদ সারভাজাদ এবং তার সহ-পাইলট মেজর মোজতবা কিয়ানি। হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়ে আগুন ধরে যাওয়ার পর, বাজারে তাদের দোকানে কাজ করা দুইজন লোক ঘটনাস্থলেই মারা গেছেন।
বিজ্ঞাপন
স্থানীয় বিচার বিভাগীয় প্রধান আসাদুল্লাহ জাফারি বলেছেন, তিনি একটি মামলাও শুরু করেছেন এবং তদন্তকারী পাঠিয়েছেন।
এরআগে দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় হামাদান প্রদেশে গভীর রাতের প্রশিক্ষণ মিশনের সময় ইরানের বিমান বাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তে একজন পাইলট নিহত হয়েছেন, কিন্তু অন্যজন সফলভাবে বেরিয়ে আসার পর বেঁচে গেছেন। বিধ্বস্ত বিমানটি যুক্তরাষ্ট্রের নির্মিত একটি পুরনো এফ-৪ মডেলের ছিল।
প্রসঙ্গত, কয়েক দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্র এবং তাদের পশ্চিমা মিত্রদের আরোপিত নিষেধাজ্ঞার ফলে ইরান তার সামরিক এবং বেসামরিক পুরনো বিমান বহর আপগ্রেড করতে পারছে না। নিষেধাজ্ঞার কারণে নতুন বিমান কেনা বা আসল খুচরা যন্ত্রাংশ পাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে, ফলে সামরিক বিমানের মধ্যে অর্ধেকের বেশি বর্তমানে অকেজো হয়ে পড়ে আছে এবং যেগুলো সচল রয়েছে সেগুলোও প্রায় দুর্ঘটনা সম্মুখীন হচ্ছে। এমনকি ২০২৪ সালের ১৯ মে একটি হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করেন ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি।
তবে ইরান রাশিয়া থেকে বেশ কয়েকটি যুদ্ধবিমান এবং প্রশিক্ষণ বিমান কিনেছে। এছাড়াও উন্নত এসইউ-৩৫ যুদ্ধবিমান কিনতে চাইছে, কিন্তু মস্কো এখনও সেগুলি সরবরাহ করেনি।
সূত্র: আলজাজিরা
এমএইচআর

