আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং সম্ভাব্য মার্কিন হামলার আশঙ্কায় নিজেদের নাগরিকদের ইরান ত্যাগ করার নির্দেশ দিয়েছে ভারত। সর্বশেষ সতর্কবার্তায় নাগরিকদের বাণিজ্যিক বিমানসহ উপলব্ধ পরিবহনের মাধ্যমে দ্রুত ইরান ত্যাগ করতে বলেছে তেহরানে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) তেহরানের ভারতীয় দূতাবাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘ইরানে অবস্থানরত শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, তীর্থযাত্রী এবং পর্যটকসহ সকল ভারতীয় নাগরিককে ‘ক্রমবর্ধমান পরিস্থিতির’ কারণে বাণিজ্যিক বিমানসহ উপলব্ধ পরিবহনের মাধ্যমে ইরান ত্যাগ করার আহ্বান জানানো হচ্ছে।’
বিজ্ঞাপন
এতে আরও বলা হয়, ‘সমস্ত ভারতীয় নাগরিক এবং ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্যক্তিদের যথাযথ সতর্কতা অবলম্বন করা এবং বিক্ষোভ বা বিক্ষোভপ্রবণ এলাকাগুলো এড়িয়ে চলা, যেকোনো সহায়তার জন্য ইরানে ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা এবং যেকোনো তথ্যের জন্য স্থানীয় মিডিয়া পর্যবেক্ষণ করা উচিৎ।’
— India in Iran (@India_in_Iran) February 23, 2026
ইরানে বসবাসকারী ভারতীয়দের তাদের ভ্রমণ এবং অভিবাসন সংক্রান্ত নথিপত্র, যার মধ্যে পাসপোর্ট এবং পরিচয়পত্র অন্তর্ভুক্ত রয়েছে- সাথে রাখার পরামর্শ দেওয়া। এছাড়াও যেকোনো সহায়তার জন্য তাদের ভারতীয় দূতাবাসের সাথে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে ভারতীয় দূতাবাস।
আরও পড়ুন
প্রসঙ্গত, গত জানুয়ারিতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে নিহতদের স্মরণে ৪০ দিনের স্মরণসভার পর শনিবার ইরানে নতুন করে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে নেমেছে দেশটির জেন-জি, অর্থাৎ তরুণ প্রজন্ম।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থার মতে, রোববার রাজধানী তেহরানের পাঁচটি এবং মাশহাদ শহরের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেছে।
বার্তা সংস্থা এএফপি কর্তৃক শরীফ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিক্ষোভের ভিডিওতে দেখা গেছে, বিপুল সংখ্যক জনতা সরকার বিরোধী স্লোগান দিচ্ছে এবং পতনশীল রাজতন্ত্রের পতাকা উড়িয়ে শিক্ষার্থীদের চারপাশে ভিড় করছে।
এদিকে বৃহস্পতিবার জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরবর্তী পরমাণু আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আল-বুসাইদি এই আলোচনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ওমান পূর্বে ইসলামী প্রজাতন্ত্রের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে পরোক্ষ আলোচনার আয়োজন করেছিল এবং গত সপ্তাহে জেনেভায় সর্বশেষ দফা আলোচনার আয়োজন করেছিল।
অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসন মধ্যপ্রাচ্যের দিকে সামরিক বিমানের চলাচল বাড়িয়েছে, কারণ ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে আলোচনা নিয়ে তার খুব বেশি আশাবাদী নয়।
ফ্লাইট ট্র্যাকিং ডেটা থেকে জানা যায় যে, এই অঞ্চলে কর্মী, যুদ্ধাস্ত্র এবং সরঞ্জাম পরিবহনকারী বিমানের একটি ধারাবাহিক প্রবাহ অব্যাহত রয়েছে।
তবে তেহরান মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন মিত্র দেশগুলোকে সতর্ক করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে তারাও সামরিক ঘাঁটিতে আঘাত হানবে।
সূত্র: এনডিটিভি
এমএইচআর

