বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

ভারতের নিন্দা

পাকিস্তানের হামলায় আফগানিস্তানে নিহত বেড়ে ৮০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৮:৪১ এএম

শেয়ার করুন:

পাকিস্তানের হামলায় আফগানিস্তানে নিহত বেড়ে ৮০

পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর বিমান হামলায় প্রতিবেশী আফগানিস্তানে ৮০ জনের বেশি জঙ্গি নিহত ও আরও কয়েক ডজন আহত হয়েছেন। 

রোববার পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর একটি সূত্র ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে এই তথ্য জানিয়েছেন। এ ঘটনায় পাকিস্তানের তীব্র নিন্দা করেছে ভারত। 


বিজ্ঞাপন


এই অবস্থায় আফগানিস্তানের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছে নয়াদিল্লি। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল রোববার (২২ ফেব্রয়ারি) পাকিস্তানের এই পদক্ষেপের সমালোচনা করেছেন।

এক্স হ্যান্ডলে রণধীর লেখেন, পবিত্র রমজান মাসে আফগান-ভূখণ্ডে পাকিস্তানের বিমান হামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে ভারত। এই হামলার ফলে নারী ও শিশুসহ বহু প্রাণহানি হয়েছে। এই ঘটনায় গভীর ভাবে শোকাহত ভারত। 

তিনি আরও লেখেন, এই ঘটনাটি পাকিস্তান সরকারের ব্যর্থতাকে ফের প্রকাশ্যে এনেছে। রণধীর জানান, আফগানিস্তানের পাশে আছে ভারত।

অন্য দিকে, পাকিস্তানের দাবি, এই হামলার মূল লক্ষ্য ছিল সীমান্ত সংলগ্ন জঙ্গিঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেওয়া। আর সেটাই করা হয়েছে। আফগানিস্তানের পাকতিকা, নঙ্গরহার এবং খোস্ত প্রদেশে অন্তত সাতটি গোপন জঙ্গিঘাঁটিতে সামরিক অভিযান চালানো হয় এবং অন্তত ৮০ জন জঙ্গি নিহত হয়েছে বলে দাবি পাকিস্তানের। যদিও তালিবান সরকারের তথ্য অনুযায়ী, এই হামলায় এখন‌ও পর্যন্ত অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছেন।

ইসলামাবাদের ওই নিরাপত্তা সূত্র বলেছে, পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর রাতভর চালানো বিমান হামলায় আফগানিস্তানে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। 

গত কয়েক সপ্তাহে পাকিস্তানের বিভিন্ন স্থানে আত্মঘাতী বোমা হামলার জবাবে আফগানিস্তান-ভিত্তিক একাধিক জঙ্গিগোষ্ঠীকে নিশানা করে রোববার বিমান হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে ইসলামাবাদ। 

তবে পাকিস্তানের বিমান হামলায় আফগানিস্তানে হতাহতের সংখ্যা যাচাই করা যায়নি বলে জানিয়েছে এএফপি। এদিকে, পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম এআরওয়াই নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববার ভোরের দিকে আফগানিস্তানের নানগরহার, পাকতিকা এবং খোস্ত প্রদেশে জঙ্গিদের ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী।

দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলেছেন, আফগানিস্তানে চালানো বিমান হামলায় এখন পর্যন্ত ‘ফিতনা আল-খাওয়ারিজের’ ৮০ জনের বেশি সদস্য নিহত হয়েছেন। তবে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।

অভিযান চলাকালে পাকিস্তানের নিষিদ্ধ-ঘোষিত জঙ্গিগোষ্ঠী তেহরিক-ই তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সাতটি জঙ্গি আস্তানা ধ্বংস করা হয়েছে বলে ইসলামাবাদের সূত্রগুলো জানিয়েছে।

ধ্বংস হওয়া ঘাঁটিগুলোর মধ্যে রয়েছে, নানগরহারের নিউ সেন্টার নম্বর–১, নানগরহারের নিউ সেন্টার নম্বর–২, খোস্তের মোলভি আব্বাস সেন্টার, নানগরহারের ইসলাম সেন্টার, নানগরহারের ইব্রাহিম সেন্টার, পাকতিকার মোল্লা রাহবার সেন্টার এবং পাকতিকার মুখলিস ইয়ার সেন্টার।

পাকিস্তানের একাধিক নিরাপত্তা সূত্র বলেছে, সীমান্তবর্তী অঞ্চলে জঙ্গিদের উপস্থিতি ও তৎপরতা সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এসব হামলা চালানো হয়েছে। অভিযানের পর ক্ষতির মূল্যায়ন ও গোয়েন্দা তথ্য যাচাই শেষে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে।

গত ৬ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের শেহজাদ টাউন এলাকার শিয়া টারলাই ইমামবাড়ার শিয়া মসজিদে আত্মঘাতী বিস্ফোরণে অনেকে নিহত হন। এর পর শনিবার খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের বান্নু এলাকায় পাকিস্তানের এক সেনাকর্মী ও এক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নিহত হওয়ার পর তারা আফগানিস্তানে এই অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নেয়। 

পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দাবি, তাদের দেশে একের পর এক হামলার নেপথ্যে রয়েছে আফগানিস্তানের তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (যাকে পাকিস্তান সরকার ‘ফিতনা-আল-খাওয়ারিজ’ বলে) এবং ইসলামিক স্টেট অফ খোরসান প্রভিন্স।

এই হামলার পর কাবুলে নিযুক্ত পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে ঘটনার তীব্র সমালোচনা করেছে তালেবান সরকার। এই হামলার জবাব যে সময়মতো দেওয়া হবে, তালিবান প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা সেই ইঙ্গিতও দিয়ে রেখেছেন।

পাকিস্তানের এই হামলার পরই তালেবান প্রশাসনের কর্মকর্তারা জরুরি ভিত্তিতে বৈঠক ডেকেছেন। মনে করা হচ্ছে, রণকৌশল ঠিক করতেই এই বৈঠক। 

তবে বিভিন্ন সূত্রের দাবি, হামলার জবাব যে দেওয়া হবে সেই ইঙ্গিত দিলেও, এখনই তাড়াহুড়ো করতে চাইছে না তালেবান প্রশাসন। তবে এই হামলাকে ঘিরে দু’দেশের সীমান্তে পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হচ্ছে।

-এমএমএস

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর