ইসরায়েলি হামলায় বিধ্বস্ত ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা বাহিনীতে— ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্সে (আইএসএফ) সেনা পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে পাঁচটি দেশ। এই দেশগুলো হলো- ইন্দোনেশিয়া, মরক্কো, কাজাখস্তান, কসোভো এবং আলবেনিয়া। এ ছাড়াও মিসর এবং জর্ডান গাজার পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ দেবে।
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) ওয়াশিংটনে ‘বোর্ড অব পিসে’র প্রথম বৈঠকে এ তথ্য জানিয়েছেন আইএসএফ কমান্ডার হিসেবে নিযুক্ত মার্কিন সামরিক বাহিনীর মেজর জেনারেল জ্যাসপার জেফার্স।
বিজ্ঞাপন
আইএসএফের কার্য পদ্ধতির রূপরেখা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘গাজায় দ্বৈত ভূমিকায় থাকবে আইএসএফ। এই বাহিনীর প্রথম দায়িত্ব থাকবে গাজার নিরাপত্তাকে স্থিতিশীল করা এবং দ্বিতীয় দায়িত্ব হবে সেখানকার বেসামরিক সরকারকে শাসন পরিচালনায় সহযোগিতা করা।’
জেফার্স বলেন, ‘গত কয়েক মাস ধরে মার্কিন সামরিক বিশেষজ্ঞদের একটি দল গাজায় অবস্থান করছে, যারা আইএসএফের জন্য অবকাঠামো প্রস্তুত করছে। দলটি ইতোমধ্যেই একটি সম্মিলিত যৌথ অপারেশন সেন্টার থেকে কাজ করছে, যা বাহিনীর সদর দপ্তর হিসেবে কাজ করবে।’
তিনি আরও জানান, পুরো গাজা উপত্যকায় আইএসএফের জন্য ৫টি সেক্টর থাকবে এবং প্রত্যেক সেক্টরে থাকবে এটি করে সেনা ব্রিগেড। এই মিশনে ইন্দোনেশিয়ার বাহিনী ‘ডেপুটি কমান্ডারের পদ গ্রহণ করেছে বলেও জানান এই মার্কিন সেনা কর্মকর্তা।
জেফার্স বলেন, ‘এই প্রথম পদক্ষেপগুলোর মাধ্যমে আমরা গাজার প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়তা করব।
বিজ্ঞাপন
এদিকে বৈঠকে অংশ নেওয়া বিশ্বনেতাদের মধ্যে ছিলেন ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবো সুবিয়ান্তো। তিনি বলেন, যুদ্ধবিধ্বস্ত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ‘শান্তি কার্যকর করতে’ তার দেশ সর্বোচ্চ ৮ হাজার সদস্য পাঠাবে।
কাজাখস্তানের প্রেসিডেন্ট কাসিম-জোমারত তোকায়েভ বলেন, চিকিৎসা ইউনিটসহ অনির্দিষ্ট সংখ্যক সেনা পাঠাবে তার দেশ। মরক্কোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী নাসের বুরিতা জানান, তার দেশ গাজায় পুলিশ সদস্য মোতায়েন করতে প্রস্তুত। আলবেনিয়াও সেনা পাঠাবে বলে জানিয়েছে।
এ ছাড়াও ফিলিস্তিনের প্রতিবেশী দেশ মিসর ও জর্ডান জানিয়েছে, তারা পুলিশ সদস্যদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এই উদ্যোগে অংশ নেবে।
প্রসঙ্গত, যুক্তরাষ্ট্রের তত্ত্বাবধানে গত অক্টোবরে শুরু হওয়া গাজা যুদ্ধবিরতি চুক্তির ২০ দফা পরিকল্পনার অন্যতম প্রধান দিক হলো মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোর সেনা নিয়ে গঠিত এই আন্তর্জাতিক বাহিনী।
ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামক বাহিনীর দায়িত্বের মধ্যে গাজার অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বজায় রাখা, হামাসকে নিরস্ত্র করা, সীমান্ত পারাপার নিয়ন্ত্রণ করা এবং একটি অন্তর্বর্তীকালীন ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে মানবিক ত্রাণ ও পুনর্গঠন কার্যক্রম পরিচালনা করার মতো বিষয়গুলো থাকবে।
সূত্র: আনদোলু, এএফপি
এমএইচআর

