ইরানের রাজধানী তেহরানের উপকণ্ঠে পারান্দ এলাকায় সামরিক স্থাপনা অঞ্চলে বিশাল কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী, যা দেখা গেছে বহুদূর থেকে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চরম সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই এ ঘটনা নিয়ে বিভিন্ন মহলে উদ্বেগ চরমে।
ধোঁয়ার ওই কুণ্ডলী দেখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে বড় ধরনের বিস্ফোরণের খবর ছড়িয়ে পড়লেও ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, এটি সাধারণ অগ্নিকাণ্ড। তবে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনার কাছেই এই ঘটনা ঘটায় আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক তোলপাড়।
বিজ্ঞাপন
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) লন্ডনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ইরান ইন্টারন্যাশনাল জানায়, পারান্দ শহরের এক বাসিন্দা একটি ভিডিও পাঠিয়ে সেখানে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনার দাবি করেছেন। তবে ভিডিওটির সত্যতা এখনো স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অন্যদিক ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবি দিয়েছে ভিন্ন তথ্য। পারান্দ ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধৃতি দিয়ে তারা জানায়, পারান্দ নদীর তীরের বিস্তীর্ণ ঝোপঝাড় ও নলখাগড়ার বনে এই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের বেশ কয়েকটি ইউনিট বর্তমানে আগুন নেভানোর কাজ করছে।
তেহরান প্রশাসনের দাবি, সেখানে কোনো ধরনের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার ঘটনা ঘটেনি।
আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, পারান্দ শহরটি তেহরানের দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত এবং এর পাশেই বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত ও সামরিক স্থাপনা রয়েছে। এলাকাটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর হওয়ায় এই অগ্নিকাণ্ডকে অনেকেই বড় ধরনের হামলা বা নাশকতার অংশ হিসেবে সন্দেহ করছেন।
বিজ্ঞাপন
এদিকে, মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের এক চাঞ্চল্যকর রিপোর্টে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের সঙ্গে বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের দিকে এগোচ্ছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের ইঙ্গিত অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরু হলে তা ভেনেজুয়েলার মতো সীমিত কোনো অভিযান হবে না; বরং এটি কয়েক সপ্তাহব্যাপী এক বিশাল যুদ্ধে রূপ নিতে পারে।
বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি বিমানবাহী রণতরী, শত শত যুদ্ধবিমান এবং অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করা হয়েছে।
ট্রাম্পের একজন উপদেষ্টার বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, চলমান পারমাণবিক আলোচনা চূড়ান্তভাবে ব্যর্থ হলে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সরাসরি সামরিক অ্যাকশন দেখার সম্ভাবনা প্রায় ৯০ শতাংশ।
এএইচ

