‘ভারত এবং বাংলাদেশ একে অপরের জন্য অপরিহার্য, আমাদের একসাথে কাজ করতে হবে’— বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা-১৪ আসনের বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম আরমান।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির সাথে এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন।
বিজ্ঞাপন
প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্যারিস্টার আরমানের এই মন্তব্যকে ইঙ্গিত দিচ্ছে- জামায়াত তার ইতিহাস এবং পাকিস্তানপন্থী অবস্থান সত্ত্বেও ভারতের সঙ্গে একসাথে কাজ করার চেষ্টা করতে ইচ্ছুক।
বাংলাদেশ পর্যবেক্ষকদের অধিকাংশের মতে, আসন্ন নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) বিএনপি এগিয়ে থাকলেও, জামায়াত যেসব এলাকায় দুর্বল ছিল, সেখানে তাদের অবস্থান তৈরি করেছে এবং এখন তারা সংখ্যাগরিষ্ঠতার লক্ষ্যে রয়েছে।
সম্প্রতি জামায়াতের আমির ড. শফিকুর রহমান বলেন, ‘মাত্র এক বছর আগে, আমার দলকে প্রান্তিক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল, মাত্র কয়েকটি আসন জিতবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল। আজ, জামায়াত সংখ্যাগরিষ্ঠতার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে। এটাই জনগণের ইচ্ছা। যখন জনগণ ঐক্যবদ্ধ হয়, তখন কিছুই তাদের থামাতে পারে না।’
এনিডিটিভি বলছে, ইসলামপন্থী দলটি সমাজের সকল স্তরের ভোটারদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছে। তারা বুঝতে পারছে, তাদের কট্টরপন্থী অতীতের কারণে ভোটারদের মন জয় করা কঠিন হবে। এই কারণেই তারা ইসলামী শক্তির প্রতি বিরূপ মনোভাব পোষণকারী অংশগুলোকে, বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায়ের মতো সংখ্যালঘুদের এবং নারী ভোটারদের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছে।
বিজ্ঞাপন
Bangladesh Polls | Jamaat Candidate Mir Ahmad Bin Quasem Arman Speaks On Women, Minorities, & Change
— NDTV WORLD (@NDTVWORLD) February 9, 2026
NDTV's @MickyGupta84 Reports From Bangladesh's Dhaka pic.twitter.com/yd7uDHbPMI
জামায়াত কীভাবে হিন্দুদের ভোট দিতে রাজি করবে
হিন্দু-বিরোধী ভাবমূর্তি থাকায় জামায়াত কীভাবে হিন্দুদের ভোট দিতে রাজি করাবে জানতে চাইলে ব্যারিস্টার আরমান এনডিটিভিকে বলেন, ‘আমরা পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি এবং যারা পরিবর্তন চায় তারা জাতি, ধর্ম এবং লিঙ্গ নির্বিশেষে আমাদের পেছনে থাকবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি হিন্দুরা ঐতিহাসিকভাবে নিপীড়নের শিকার হয়েছে... আমি বিশ্বাস করি তারাও পরিবর্তন চায় এবং এই পরিবর্তনের দাবির কারণে আমরা তাদের সমর্থন পাব।’
‘আমরা আবার ফ্যাসিবাদ চাই না’
শেখ হাসিনার আমলে জোরপূর্বক গুমের শিকার হওয়া ব্যারিস্টার আরমান এবারের নির্বাচনে বিএনপির সানজিদা ইসলাম তুলির বিরুদ্ধে লড়াই করছেন, যিনি জোরপূর্বক গুমের শিকারদের পরিবারগুলোর সংগঠন মায়ের ডাকের সমন্বয়ক।
আরমান আরও বলেন, ‘আমরা আবার ফ্যাসিবাদ চাই না। আমি জোরপূর্বক গুমের শিকার হয়েছিলাম। আমি আশা করি গণভোটে “হ্যাঁ” জয় হবে।’
প্রসঙ্গত, মীর আহমদ বিন কাসেম আরমান হলেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতে ইসলামী নেতা মীর কাসেম আলীর ছোট ছেলে এবং ২০২৪ সালে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর তিনি গোপন আটককেন্দ্র বা ‘আয়নাঘর’ থেকে মুক্তি পান। তাকে জামায়াতের শীর্ষ নেতৃত্বের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি হিসেবে দেখা হয়।
সূত্র: এনডিটিভি
এমএইচআর

