রোববার, ১৪ জুন, ২০২৬, ঢাকা

ইরানের জলসীমা থেকে দূরে থাকতে মার্কিন জাহাজকে পরামর্শ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:১০ এএম

শেয়ার করুন:

ইরানের জলসীমা থেকে দূরে থাকতে মার্কিন জাহাজকে পরামর্শ

হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের সময় ইরানের জলসীমা থেকে যতটা সম্ভব দূরে থাকতে মার্কিন পতাকাবাহী জাহাজগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের মেরিটাইম অ্যাডমিনিস্ট্রেশন প্রকাশিত এক পরামর্শে বলা হয়, ইরানি বাহিনী যদি কোনো মার্কিন বাণিজ্যিক জাহাজে ওঠার অনুমতি চায়, সে ক্ষেত্রে তা দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। তবে ইরানি বাহিনী জাহাজে উঠলে নাবিকদের জোরপূর্বক প্রতিরোধ না করার কথাও বলা হয়েছে। নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়, এতে বোর্ডিংয়ের প্রতি সম্মতি প্রকাশ পায় না।


বিজ্ঞাপন


পরামর্শে আরো বলা হয়, নৌ-চলাচলের নিরাপত্তা বজায় রেখে যতটা সম্ভব ইরানের জলসীমা এড়িয়ে চলতে হবে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে পূর্বমুখী যাত্রার সময় জাহাজগুলোকে ওমানের জলসীমার কাছাকাছি দিয়ে চলাচলের সুপারিশ করা হয়েছে।

এই নির্দেশনা এমন সময়ে এলো, যখন গত শুক্রবার ওমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে এক দফা পরোক্ষ আলোচনা হয়েছে। কয়েক সপ্তাহ ধরে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য ও হুমকির কারণে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছিল।

ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথগুলো প্রায়ই ঝুঁকির মুখে পড়ে, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে। ১৯৮০-এর দশকে ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছিল, যা ‘ট্যাংকার যুদ্ধ’ নামে পরিচিত।

সাম্প্রতিক সময়ে ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী লোহিত সাগরে ইসরায়েল-সম্পর্কিত জাহাজে হামলা চালায়। গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধ বন্ধের দাবিতে এসব হামলা চালানো হয়েছে বলে তারা জানায়।
গত বছরের জুনে ইসরায়েল-ইরান উত্তেজনার মধ্যে ইরানের এক সংসদ সদস্য হরমুজ প্রণালি বন্ধের হুমকিও দিয়েছিলেন।


বিজ্ঞাপন


যুক্তরাষ্ট্র সরকার হরমুজ প্রণালিকে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন নৌপথ হিসেবে উল্লেখ করে। এই প্রণালি দিয়েই উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ হয়।

চলতি বছরের জানুয়ারির শেষ দিকে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী হরমুজ প্রণালিতে নৌ মহড়া চালায়। এরপর যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে ‘অনিরাপদ ও অপেশাদার আচরণ’ থেকে বিরত থাকার সতর্কবার্তা দেয়। পরে মার্কিন সামরিক বাহিনী জানায়, তারা তাদের একটি বিমানবাহী রণতরীর কাছে আসা একটি ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করেছে।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞার অংশ হিসেবে ইরানের তেলবাহী ট্যাংকার জব্দ করেছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে উপসাগরীয় অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজের বিরুদ্ধে কোনো সরাসরি হুমকির তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি।

পারমাণবিক ইস্যুতে আলোচনা

এর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র অঞ্চলটিতে সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে হামলার হুমকিও দিয়ে আসছেন।
গত ডিসেম্বরে তিনি বলেন, ইরান যদি তাদের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি পুনর্গঠনের চেষ্টা করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালাবে।

ইরানি কর্মকর্তারা বলছেন, চলমান আলোচনা কেবল পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েই। তবে যুক্তরাষ্ট্র চাইছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং হিজবুল্লাহ ও হামাসের মতো গোষ্ঠীর প্রতি তেহরানের সমর্থনও আলোচনায় আসুক।

আলোচনার অন্যতম বিতর্কিত বিষয় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ। ইরান বলছে, এটি তাদের সার্বভৌম অধিকার এবং তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছে না। তবে ট্রাম্প প্রশাসন শূন্য সমৃদ্ধকরণের দাবিতে অনড় রয়েছে।

এমআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর