প্রায় এক-তৃতীয়াংশ (৩০ শতাংশ) কর্মী ছাঁটাই করার ঘোষণা দিয়েছে ঐতিহ্যবাহী ও অত্যন্ত প্রভাবশালী মার্কিন পত্রিকা দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট, যার ফলে চাকরি হারাচ্ছেন অন্তত ৩০০ জন সাংবাদিক। এছাড়াও আমাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোসের মালিকানাধীন পত্রিকাটি তাদের বেশ কিছু বৈদেশিক কার্যালয় এবং স্পোর্টস, বুকস বিভাগ ও দৈনিক নিউজ পডকাস্ট পুরোপুরি বন্ধ করে দিচ্ছে।
গতকাল বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মরত কর্মীদের এ বিষয়ে নোটিশ পাঠায় ওয়াশিংটন পোস্ট। এতে বলা হয়, ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে কয়েকটি কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয় হয়েছে এবং সে অনুযায়ী যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিজ্ঞাপন
এই সিদ্ধান্ত সম্পর্কে অবগত দুটি সূত্র জানিয়েছে, কোম্পানিটি তার সমস্ত কর্মচারীর প্রায় ৩০ শতাংশ ছাঁটাই করেছে। এতে ব্যবসায়িক বিভাগ এবং বিশ্বজুড়ে কর্মরত প্রায় ৮০০ সাংবাদিকের মধ্যে ৩০০ জনেরও বেশি বাদ পড়েছে। এর মধ্যে বিখ্যাত অনেক সাংবাদিকও রয়েছেন, সেই তালিকায় রয়েছেন ভারতের প্রধান বিরোধীদল কংগ্রেসের প্রভাবশালী নেতা ও লোকসভা সদস্য শশি থারুরের ছেলে ইশান থারুর।
সূত্রের বরাতে নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, ইতোমধ্যেই মধ্যপ্রাচ্য, ভারত (নয়াদিল্লি) এবং অস্ট্রেলিয়ার ব্যুরোসহ বেশ কিছু বৈদেশিক কার্যালয় বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। এমনকি যুদ্ধকালীন সময়ে ইউক্রেন ব্যুরো প্রধানকেও ছাঁটাই করা হয়েছে।
এদিকে নিউজরুমের কর্মীদের সাথে এক ফোনালাপে দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের নির্বাহী সম্পাদক ম্যাট মারে বলেন, ‘পুরোনো আমলে স্থানীয় পত্রিকাগুলো যেমন একচেটিয়া ব্যবসা করতো, সেরকম একটি ব্যবসায়িক কাঠামো আমরা দীর্ঘদিন ধরে অনুসরণ করে এসেছি। এতে কোম্পানিটি দীর্ঘদিন ধরে অনেক বেশি লোকসান গুনছে। কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর উত্থানের কারণে গত তিন বছরে পত্রিকাটির গ্রাহক সংখ্যা প্রায় অর্ধেক কমে গেছে। আমাদেরকে এখন সামনে এগিয়ে যাওয়ার নতুন পথ খুঁজে পেতে হবে এবং আরও শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করতে হবে।’
কর্মী ছাঁটাইয়ের সম্পূর্ণ দায়িত্ব নিয়ে মারে আরও বলেছেন, ক্রমাগত আর্থিক ক্ষতি এবং গ্রাহক সংখ্যা হ্রাসের কারণে এই ‘বেদনাদায়ক’ কিন্তু প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এতে পোস্টের ক্রীড়া বিভাগ বন্ধ করা হবে, যদিও কিছু রিপোর্টার থাকবেন এবং ফিচার বিভাগে চলে এসে ক্রীড়ার সংস্কৃতি কভার করবেন। মেট্রো বিভাগ সংকুচিত হবে এবং বই বিভাগ ও দৈনিক নিউজ পডকাস্ট বন্ধ হবে। আন্তর্জাতিক কভারেজও কমে যাবে, তবে সাংবাদিকরা প্রায় একটি ডজন লোকেশনে থাকবেন।
বিজ্ঞাপন
প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালে পত্রিকাটি কিনে নেওয়ার সময় বেজোস কথা দিয়েছিলেন তিনি এর দৈনন্দিন কার্যক্রমে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করবেন না। তার মালিকানার প্রথম আট বছরে পত্রিকাটি সম্প্রসারিত হয়েছিল। কিন্তু সম্প্রতি সংস্থা বেশ হোঁচট খেয়েছে। ২০২৩ সালে পত্রিকাটির লোকসানের পরিমাণ ছিল ১০০ মিলিয়ন ডলার।
সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস
এমএইচআর

